বাবুগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা:
শিশু রাইসা হত্যা মামলায় বাবা কারাগারে, ছেলে কিশোর সংশোধনাগারে
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় ৯ বছর বয়সী রাইসা মনিকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি সিফাত সিকদারকে (১৫) বৃহস্পতিবার ভোরে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই মামলার অপর আসামি তার বাবা জালাল সিকদার সকালে থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম জানান, পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠি এলাকা থেকে কিশোর সিফাত সিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সকালে তার বাবা জালাল সিকদার থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন। পরে জালাল সিকদারকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে ও সিফাত সিকদারকে যশোর কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে নাম না প্রকাশের শর্তে আত্মসমর্পণকারীদের স্বজনরা জানিয়েছেন, দুইজনই আত্মসমর্পণ করেছে। থানার সিসি ফুটেজ দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তারা।
এদিকে ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে একটি চিরকুটকে ঘিরে। পুলিশ জানায়, ঘটনার পরদিন রাইসার ঘর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যাতে আত্মহত্যার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে সেটি রাইসার লেখা কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই চিরকুট নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশের বক্তব্যে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। রাইসার বাবা নজরুল হাওলাদার দাবি করেন, ঘটনার পর তারা ঘর খুঁজে কোনো চিরকুট পাননি। পরে পুলিশ হঠাৎ একটি কাগজ উদ্ধারের কথা জানায়। তার অভিযোগ- আসামিদের বাঁচাতেই এই চিরকুট সামনে আনা হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার আগে অভিযুক্ত কিশোর রাইসাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিল। বিষয়টি জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি, বরং তাদের হুমকি দেওয়া হয়। স্বজনদের দাবি- বাবার প্রশ্রয়েই কিশোর এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। এ কারণেই মামলায় কিশোরের বাবাকেও আসামি করা হয়েছে।
গত রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাইসার শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রথমে তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে সেদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।
