নিজস্ব প্রতিবেদকঃবরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় জাটকা নিধন বিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় এক সৎ ও নির্ভীক কর্মকর্তাকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞা শতভাগ বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে এক শ্রেণির অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।রবিবার (১২ এপ্রিল) মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই ভাড়াটে বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তারা দাবি করেন, জাটকা নিধন বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হাসানকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল শ্রীপুর এলাকা থেকে দুটি বেড় জাল এবং বাখরজা এলাকা থেকে জাটকা ও পাঙ্গাসের পোনাসহ দুটি ট্রলার জব্দ করে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিস। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হাসান। এ সময় প্রায় ৪০০ কেজি জাটকা জব্দ এবং দুইজনকে আটক করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন কর্মকর্তা জাহিদ হাসান। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাসিন্দা খোকন বলেন, “যারা একজন সৎ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করছে, তারা দেশ ও জাতির শত্রু। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, “জাহিদ হাসান সবসময় সরকারের নির্দেশনা মেনে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তাকে সরিয়ে দিতে পারলে অসাধু চক্র আবার সক্রিয় হয়ে উঠবে।”অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা মৎস্য অফিসের ভেতরের কিছু অসাধু ব্যক্তির সঙ্গে জাটকা নিধনে জড়িতদের যোগসাজশ রয়েছে। ফলে নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলটি জাটকা নিধনের হটস্পটে পরিণত হয়েছে।এদিকে আটককৃতদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াজুর রহমান। আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত জাটকা স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।উল্লেখ্য, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা ও চাঁদপুর জেলার পাঁচটি অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বহাল থাকবে।
