আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সরকারি শিশু পরিবার (দক্ষিণ), বরিশালের কিশোরীদের নিয়ে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (SRHR), সাইবার বুলিং এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা (TFGBV) প্রতিরোধবিষয়ক একটি সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এ্যাসোসিয়েশন অব ভলান্টারি এ্যাকশনস ফর সোসাইটি (আভাস) বাস্তবায়িত ইয়ুথ শেয়ার-নেট প্রকল্পের আওতায়, রেডঅরেঞ্জের উদ্যোগে এবং অ্যামপ্লিফাই চেইঞ্জের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি কিশোরীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে “মাসিক স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন কর্নার” স্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আভাসের সহকারী নির্বাহী পরিচালক জান্নাতুন নাঈম ঐশী। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের কোতোয়ালি মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর নুসরাত জাহান পিকলি এবং মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, বরিশালের চিকিৎসক ডা. তানজিলা তাজিন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সরকারি শিশু পরিবার (দক্ষিণ), বরিশালের উপ-তত্ত্বাবধায়ক ফারজানা রহমান, শিশু পরিবারের কিশোরীরা এবং আভাসের স্বেচ্ছাসেবক ও সহকারীবৃন্দ।
আলোচনায় বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, বাল্যবিবাহ ও অল্প বয়সে গর্ভধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকি, সম্মতি, ব্যক্তিগত সীমারেখা এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের অধিকার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি অনলাইন হয়রানি, ভুয়া অ্যাকাউন্ট, ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্যের অপব্যবহার এবং ব্ল্যাকমেইল থেকে সুরক্ষার উপায় সম্পর্কে কিশোরীদের সচেতন করা হয়। এ সময় ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ জানানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত সহায়তা গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
কিশোরীদের জন্য স্থাপিত “মাসিক স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন কর্নার” স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং অবসর সময় কাটানোর একটি সহায়ক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিসর হিসেবে কাজ করবে। কর্নারটির কার্যক্রম পরিচালনায় কিশোরীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে তারা নিজেরাই মাসিক স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে পারে।
আলোচনায় কিশোরীদের নিজেদের স্বাস্থ্য ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অনলাইন ও অফলাইন—উভয় ক্ষেত্রেই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। কোনো ধরনের হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার হলে নীরব না থেকে নিজেকে দোষারোপ না করে বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানের মূল বার্তা ছিল—“লজ্জা নয়, সচেতনতা—নিজের স্বাস্থ্য জানো, নিজের অধিকার বোঝো, সুস্থ ও নিরাপদ থাকো।” একই সঙ্গে অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধ, প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার এবং প্রয়োজনের সময় যথাযথ সহায়তা গ্রহণের মাধ্যমে কিশোরীদের জন্য একটি নিরাপদ ও অধিকারভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
