নিজস্ব প্রতিবেদকঃভূমি-সংক্রান্ত সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো, দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা এবং অফিসের কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বরিশাল সদর ভূমি অফিসে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে আজহারুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর অফিসের সার্বিক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভূমি অফিসে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নামজারি, খতিয়ান, পর্চা ও অন্যান্য ভূমি-সংক্রান্ত সেবা নিতে আসেন। সেবাগ্রহীতারা যাতে প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পান এবং নির্ধারিত নিয়মে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে পারেন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর সাধারণ মানুষের ভূমি-সংক্রান্ত সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অফিসের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা, সেবার মান এবং জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তারা।
ভূমি অফিসের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সম্প্রতি বরিশাল সদর ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনের কিছু তথ্য সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, কম্পিউটার অপারেটর কুতুবউদ্দিন গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে চাকরি ছেড়ে বর্তমানে ঢাকার বিয়াম ফাউন্ডেশনে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া আতিকুর রহমান গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে বদলি হয়ে বর্তমানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ভূমি অফিসের বিভিন্ন নথি ও কার্যক্রমের বিষয়ে ওই কর্মচারী আরও বলেন, চন্দ্রমোহনের মজিবর হাওলাদার নামে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গত তিন বছরে ১৫০ ধারায় কোনো মামলা দাখিল বা রায়ের তথ্য নেই। একইভাবে কাশিপুর ইউনিয়নে ‘মান্নান খলিফা’ নামে কোনো ব্যক্তির গত তিন মাসের নামজারি আবেদনের তথ্যও পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
চরমোনাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিষয়েও তিনি বলেন, বর্তমানে সেখানে মিজানুর রহমান নামে কোনো কর্মকর্তা কর্মরত নেই। ওই অফিসের তহসিলদার হিসেবে আমির মল্লিক দায়িত্বে ছিলেন এবং তিনি স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেছেন, যা ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক অনুমোদন করেছেন বলে জানান তিনি।
অপরদিকে কাশিপুর ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ‘মান্নান খলিফা’ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, অনলাইন সেবা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে ওই নামে কোনো ব্যক্তির ভূমি-সংক্রান্ত সেবা গ্রহণের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হা. ম. আব্দুর রহমান বর্তমানে আমানতগঞ্জ ভূমি অফিসে কর্মরত রয়েছেন। তিনি জানান, শায়েস্তাবাদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রায় সাত মাস কর্মরত ছিলেন এবং প্রায় চার মাস আগে আমানতগঞ্জ ভূমি অফিসে যোগদান করেছেন।
হা. ম. আব্দুর রহমান বলেন, শায়েস্তাবাদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং চোখে ছানি পড়ায় অস্ত্রোপচারও করাতে হয়েছিল। তবে তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকতেন এবং অসুস্থতার সময় অফিসের নিয়মিত কার্যক্রম তার সহকারী সম্পন্ন করতেন। দায়িত্ব পালনকালে অফিসের কার্যক্রম তিনি তদারকি করেছেন বলেও জানান।
ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা বেলাল বলেন, “সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম স্যার দায়িত্ব নেওয়ার পর সাধারণ মানুষের ভূমি-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। সেবাগ্রহীতাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া এবং নিয়ম অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আজহারুল ইসলাম স্যার একজন সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। সাধারণ মানুষের সমস্যা শুনে তা সমাধানের চেষ্টা করছেন। তার মতো কর্মকর্তা থাকলে ভূমি অফিসের সেবার মান আরও ভালো হবে বলে আমরা আশা করি।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভূমি অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবাকেন্দ্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একজন সেবাগ্রহীতা যাতে অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার না হন এবং নির্ধারিত নিয়মে কাঙ্ক্ষিত সেবা পান, সেটিই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান লক্ষ্য।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, বরিশাল সদর ভূমি অফিসে চলমান ইতিবাচক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে আরও কার্যকর যোগাযোগ ও তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানো হলে ভূমিসেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হবে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে বরিশাল সদর ভূমি অফিসের এই ইতিবাচক ধারা আরও এগিয়ে যাবে এবং ভূমি-সংক্রান্ত সেবা গ্রহণে মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।
