নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবাচিম) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষা সফরের একটি বাস দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছেন শিক্ষার্থীরা। কক্সবাজারে শিক্ষা সফরে যাওয়ার পথে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে ২৬ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দাউদকান্দির জিংলাতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও শেবাচিমের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ থেকে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়। তবে সফর শুরুর আগে থেকেই এর ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ব্যবস্থা ও সেবার মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল ।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষা সফরের জন্য নির্ধারিত বাজেট ও সরবরাহ করা সেবার মানের মধ্যে অসংগতি ছিল। বিষয়টি নিয়ে তারা শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে চুক্তি করে। চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল উন্নতমানের বাস সরবরাহ করা। এ জন্য তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থও নেওয়া হয়। অথচ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস সরবরাহ করা হয়নি। এর মধ্যেই ওই বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঘটনার সময় বাসটির চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তাছাড়া দুর্ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সামিন রেজা বলেন, “ভোররাতে দুর্ঘটনা ঘটলেও দুপুর পর্যন্ত কলেজের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতায় কেউ এগিয়ে আসেননি। আমরা অত্যন্ত ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিলাম। দুর্ঘটনার পর আমাদের নিজেদেরই অনেক কিছু সামলাতে হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের এমন ভূমিকা হতাশাজনক।”
এ বিষয়ে শেবাচিমের অফিস সহকারী (শিক্ষার্থী প্রতিনিধি) মোহাম্মদ রনি বলেন, “সোমবার বিকেল ৪টার দিকে চারটি বাসে ৪৪ ব্যাচের ২৩৪ শিক্ষার্থী কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে একটি বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সংবাদ পেয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছেন।”
শিক্ষার্থীদের দাবি, পুরো ঘটনার তদন্ত করতে হবে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি শিক্ষা সফরের জন্য বাস নির্বাচন ও চুক্তির প্রক্রিয়া, অর্থ ব্যয় এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম বা অবহেলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
