নাইমুল ইসলাম, গৌরনদী প্রতিনিধিঃএকসময় ঘরের কোনো আনন্দ আয়োজন, প্রিয় অতিথির আপ্যায়ন কিংবা বিশেষ দিনের রান্নায় সুগন্ধ ছড়াত চিনিগুড়া চালের পোলাও। বাঙালির ঐতিহ্য ও আবেগের সঙ্গে মিশে থাকা সেই সুগন্ধি চাল এখন অনেক সাধারণ পরিবারের কাছে যেন অধরা এক স্বপ্ন। দাম বেড়ে যাওয়ায় চিনিগুড়া চাল আর নিত্যদিনের পছন্দ নয়, পরিণত হয়েছে অনেকটা বিলাসী পণ্যে।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন পাইকারি বাজার ও খুচরা দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি চিনিগুড়া চাল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে। কয়েক মাসের ব্যবধানে কয়েক দফা দাম বাড়ায় অনেক ক্রেতাই বাধ্য হচ্ছেন প্রিয় এই চালের নাম তাদের কেনাকাটার তালিকা থেকে বাদ দিতে।
গৌরনদীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক মাস আগেও এরফান, মফিজ, আনোয়ার ও পুষ্টিসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের উন্নতমানের চিনিগুড়া চালের দাম ছিল প্রতি কেজি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। একই সময়ে পুষ্টি, তীর ও চাষী ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত পোলাও চাল বিক্রি হয়েছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা দরে। বর্তমানে এসব চালের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১০ থেকে ২৫০ টাকায়।
শুধু উন্নতমানের চাল নয়, নিম্নমানের চিনিগুড়া চালের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। কয়েক মাস আগে যে চাল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো, বর্তমানে তা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৫০ টাকা কেজি দরে।
স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের গৌরনদী উপজেলা এলাকার একজন বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, চাষী ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত চিনিগুড়া চাল দুই মাস আগেও প্রতি কেজি ১৬৫ টাকা ছিল। এরপর কয়েক দফা দাম বেড়ে বর্তমানে তা ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন পাইকারি চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, চিনিগুড়া চালের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, সরবরাহ কমে যাওয়া এবং চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় দাম বাড়ছে।
গৌরনদীর টরকি বন্দরের কয়েকজন পাইকারি চাল ব্যবসায়ী জানান, মোকাম থেকেই আগের তুলনায় বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে দাম বৃদ্ধির কারণে বিক্রির পরিমাণ আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলেও জানান তারা।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, হঠাৎ করে চিনিগুড়া চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারাও সমস্যায় পড়েছেন। ক্রেতাদের সঙ্গে দাম নিয়ে প্রায়ই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে। দুই মাসের ব্যবধানে কয়েক দফা দাম বৃদ্ধিতে বাজারে তৈরি হয়েছে অস্বস্তি।
গৌরনদীর বাসিন্দা আরিফ বিশ্বাস বাজারে পণ্য কেনার সময় বলেন, “নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একসময় মেহমান এলে বা বিশেষ দিনে চিনিগুড়া চালের পোলাও রান্না করা হতো। এখন দাম এত বেড়েছে যে, সাধারণ মানুষের জন্য এই চাল কেনা কঠিন হয়ে গেছে।”
স্থানীয় বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এবং বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে না এলে বাঙালির ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই সুগন্ধি চাল ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।
