গৌরনদী প্রতিনিধিঃপাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের ভোক্তা পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত মূল্য ৯৭৫ টাকা থাকলেও ডিলার পর্যায় থেকে খুচরা বিক্রেতাদের ৯৭০ টাকায় তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ফলে প্রতি বোতলে মাত্র ৫ টাকা লাভ থাকায় চরম অসন্তোষ ও বিপাকে পড়েছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।
গৌরনদীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত মূল্যে পাঁচ লিটার তেল বিক্রি করলেও ভোক্তাদের একটি বড় অংশ ৯৭০ টাকার বেশি মূল্য দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। অনেক ক্রেতার ধারণা, খুচরা বিক্রেতারা পাঁচ লিটার তেলে অনেক বেশি মুনাফা পান। এ কারণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রায়ই ক্রেতাদের বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হচ্ছে।
বর্তমানে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৯ টাকা, দুই লিটার ৩৯৮ টাকা, তিন লিটার ৫৯৭ টাকা এবং পাঁচ লিটার ৯৭৫ টাকা। কিন্তু ডিলার পর্যায়ে থেকে খুচরা বিক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে এক লিটার ১৯৮ টাকা, দুই লিটার ৩৯৬ টাকা, তিন লিটার ৫৯৪ টাকা এবং পাঁচ লিটার ৯৭০ টাকা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ ধরনের মূল্য নির্ধারণ খুচরা বাজারে বাস্তবসম্মত নয়। বিশেষ করে ১৯৯ টাকার পণ্যে খুচরা টাকার সংকটের কারণে অনেক সময় ২০০ টাকা নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। আবার ১৯৫ টাকায় বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হয়। অন্যদিকে ২০০ টাকা রাখলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরিমানার ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, আগে প্রতি লিটারে তাদের লাভের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ টাকা। বর্তমানে সেই মার্জিন আরও কমে যাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। দোকান ভাড়া, শ্রমিক ব্যয়, পরিবহন খরচসহ অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বহন করে এ সামান্য লাভে টিকে থাকা সম্ভব নয় বলেও দাবি তাদের।
বিভিন্ন কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি ও টেরিটরি সেলস অফিসার (টিএসও) সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানির পক্ষ থেকেই প্রতি লিটার তেলে এক টাকা লাভের এ কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে এবং খুচরা বিক্রেতাদের ক্রয় রসিদ থেকে এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভোজ্যতেলের চাহিদা বাড়লেও কম লাভের কারণে অনেক খুচরা বিক্রেতা পর্যাপ্ত তেল দোকানে রাখতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন। এতে বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বোতলজাত সয়াবিন তেলে লাভের পরিমাণ বাড়ানো এবং বাস্তবসম্মত মূল্য কাঠামো নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কোম্পানিগুলোর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
