ঢাকা শনিবার , ১১ এপ্রিল ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আদালতের নির্দেশ অমান্য করে সাবেক প্যানেল মেয়র বাদশার ভবনে নির্মাণ কাজ, অভিযোগ ডেভলপারের বিরুদ্ধে।

vorer angikar
এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১০:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আদালতের নির্দেশ অমান্য করে সাবেক প্যানেল মেয়র বাদশার ভবনে নির্মাণ কাজ অভিযোগ ডেভলপারের বিরুদ্ধে।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরিশাল নগরীর ১৬ নং ওয়ার্ডের গোড়াচাঁদ দাস রোডস্থ হালিমা খাতুন স্কুলের সাথে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র ও ১৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ মোশারেফ আলী খান বাদশা’র ১০ তলা ভবনের “বন্টন” নিয়ে বিরোধের জেরে প্রথম স্ত্রী,৪ সন্তান ও ডেভলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় স্ত্রীর আদালতে দায়ের করা মামলায় আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভবনটিতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডেভলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে।গত ৫ মার্চ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মামলার শুনানি শেষে বিরোধীয় ভূমিতে গোরে ওঠা বিল্ডিং ভাড়া প্রদান, হস্তান্তর সহ সকল ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু আদালতের এ নির্দেশকে অমান্য করে এম আর ডেভলপার লিঃ স্বত্বাধিকারী কাজী মাহফুজ রহমান এই নির্দেশকে অমান্য করে বিল্ডিং এর সকল কার্যক্রম চালিয়ে যায়।শুক্রবার বাদী আকলিমা বেগম এর পক্ষে শফিকুল ইসলাম কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলে থানা পুলিশ ভবনটির চলমান কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে আসে। উল্লেখ্য ২০২৪ আকলিমা বেগমের দায়ের করা মামলা বাদি যা জানান মৃত.মোঃ মোশারেফ আলী খান বাদশার রেখে যাওয়া নির্মানাধীন ১০ তলা বহুতল ভবনের বন্টন নিয়ে দুই স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে বিরোধ চলছিল বছর কয়েক ধরে।বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়িয়েছে ।স্বামীর সম্পত্তি থেকে জোরপূর্বক বেদখলের চেষ্টা ও খুন যখমের হুমকির অভিযোগ এনে দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা বেগম বাদী হয়ে গত ২৮ নভেম্বর বরিশাল বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা মাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁর স্মামীর প্রথম স্ত্রী রুবিনা আক্তার, ছেলে মোঃআল জায়েদ খান রছি,জুবায়ের খান রনি,আফসানা ইয়াসমিন রেখা ও এম,আর,ডেভলপার লিঃ এর স্বত্বাধিকারী কাজী মাহফুজুর রহমান সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ১৪৫/১৪৫ ধারায় স্থিতি আদেশ চেয়ে মামলা দায়ের করেন।এম,পি মামলা নং- ১৭২৯/২০২৪(কোতয়ালী)মামলার বাদী মৃত মোঃ মোশারেফ আলী খান বাদশার দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা বেগম বলেন,আমার ২ ছেলে ও ১ মেয়ে আছে। আমার স্বামী মৃত্যুর পূর্বে বরিশাল নগরের ১৬ নং ওয়ার্ডের গোড়াচাঁদ দাস রোডস্থ হালিমা খাতুন স্কুলের পাশে বরিশাল জেলার কোতয়ালী থানার, জে.এল নম্বর ৫০, বগুড়া আলেকান্দা মৌজায় তাঁর নিজের নামে ৬ শতাংশ ও প্রথম স্ত্রী রুবিনা আক্তারের নামে রাখা ৬ শতাংশ সহ মোট ১২ শতাংশ জমি আছে। আমার স্বামী মোঃ মোশারেফ আলী খান বাদশা মৃত্যুর আগে ঐ জমিতে ১০ তলা ভবন নির্মাণের জন্য এম,আর,ডেভলপার লিঃ এর স্বত্বাধিকারী কাজী মাহফুজুর রহমানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। ভবন নির্মাণ কাজ শুরুর কয়েক মাস পরে আমার স্বামীর মারা যায়।ভবনের নির্মান কাজ এখন প্রায় শেষের দিকে। ভবনে মোশরেফ আলী খান বাদশার নামের ৬ শতাংশ জমির মধ্যে ২.৭৫ শতাংশ জমির আমি ও আমার ৩ সন্তানরা বৈধ ওয়ারিশ।
দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা বেগম অভিযোগ করেন প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তানরা উগ্র ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির। আমাদের প্রাপ্য জমি থেকে আমাদের বঞ্চিত করতে চায়। গত ২ নভেম্বর শনিবার সকালে বহিরাগত ৫/৭ জন লোক দিয়ে এসে বিরোধপূর্ন সম্পতি বিক্রির পায়তারা চালায়।আমাদের জমি দিবেনা বলে জানায়। আর জমিতে নির্মিত ফ্লাট তারা বিক্রি করে দিবে। তাদের কাজে বাঁধা দিলে আমাকে ও খুন করারও হুমকি দেয়।
তাই স্বামীর সম্পত্তির সমান অধিকার ও সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছি।মামলা ও অভিযোগের বিষয়ে বিষয়ে মোশরেফ আলী খান বাদশার প্রথম স্ত্রী রুবিনা আক্তার বলেন,আমার স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী জমির অংশিদার দাবি করে আদালতে মামলা করেছে। আদালতের পাঠানো নোটিশ পুলিশের কাছ থেকে রিসিভ করে রেখেছি। আমরা আইনি ভাবে মোকাবেলা করবো। আর আমাদের বিরুদ্ধে খুন জখমের যে অভিযোগ দায়ের করেছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।মামলার অপর আসামী এম,আর,ডেভলপার লিঃ এর স্বত্বাধিকারী কাজী মাহফুজুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালের দিকে বগুড়া আলেকান্দা মৌজায় সাবেক প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলর মোশারেফ আলী খান বাদশা ও তার প্রথম স্ত্রীর নামের ১২ শতাংশ জমিতে ১০ তলা ভবন নির্মাণে চুক্তিবদ্ধ হই।
আমার অর্থায়নে নির্মান কাজ এখনও চলছে।কাজ শেষ হলে আমি ভবনের ৫২ % অংশ পাব। আর ভবনের বাকি ৪৮% অংশ পাবে মোশারেফ আলী খান বাদশা ও তার স্ত্রী সন্তানেরা। তবে মোশারেফ আলী খান বাদশার মৃত্যুর পরে দুই স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে জমি বন্টন নিয়ে বিরোধে এখন আমাকেও মামলার আসামী করা হয়েছে। এই মুহুর্তে ভবনের নির্মান কাজ বন্ধ থাকলে আমার অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে। তাদের নিজেদের মধ্যকার ঝামেলা নিজেরা মীমাংসা করলেই ভালো হয়।
কোতয়ালী মডেল থানার এ,এস,আই জয়নাল বলেন,ভবনটি নিয়ে আদালতে একটি চলমান বন্টন মামলা রয়েছে।মামলার বাদী দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা বেগমর পক্ষে শফিকুল ইসলাম একটি লিখিত অভিযোগ দিলে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে আমি ফোর্স নিয়ে চলমান বিল্ডিং এর কাজ বন্ধ রাখতে বলি এবং উভয়পক্ষ কি থানায় আসতে বলেছি। আগামী ২২ এপ্রিল মামলার ধার্য তারিখে তাদের আদালতে হাজির হতে বলেছি। আর যেহেতু ভবনের ফ্লাট বন্টন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিবেশ বিরাজ করছে। তাই উভয়পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশনা দিয়েছি। তাঁরা যদি শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় না রাখে তাহলে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।