ঢাকা রবিবার , ২৯ মার্চ ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে দুর্নীতির মামলার আসামিকে অব্যাহতির অভিযোগ দুদক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

vorer angikar
মার্চ ২৯, ২০২৬ ৮:০৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ বরিশালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এজাহারভুক্ত আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মামলার বাদী এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা নিজেই আসামিকে দায়মুক্তি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন দুদক বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মনিরুন নেছা।
বরিশাল সদর উপজেলাধীন ১০ নং চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন এর ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহআলম চুন্নু ইজিপিপি প্রকল্পের শ্রমিক হিসাবে আবু সুফিয়ানের নামে মৃত্যুর পূর্বে তার নামীয় সোনালী ব্যাংক পিএলসি সাহেবের হাট শাখা বরিশালের হিসাব নং ০৩৩১৯০১০১৫৪০৫ থেকে শ্রমিক মজুরি বাবদ ১৯/০৩/২০১৭ইং তারিখ থেকে ১৩/০২/২০২০তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন ভাউচারের মাধ্যেমে ৬,৭২,০০০ টাকার মধ্যে ১৪,৫০০ টাকা মোঃ সুফিয়ানের মৃত্যুর পরেও প্রতারণা আশ্রয়ে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও অপরাধমূলক অসদাচরনের মাধ্যমে চেক ভাউচারে উত্তোলনপূর্বক আত্মসাত করায় দন্ডবিধির ৪০৯/৪২০ তৎসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তার বিরুদ্ধে বর্ণিত ধারায় গত ১৮/০৯/২৪ তারিখে বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত বরিশালে এজাহার ও এফআইআর হয়। মামলা নং ১২। মৃত্যুর পরে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলণ করার প্রমান পাওয়ায় মোঃ ইউসুফ আলী সিকদারের ছেলে ইউপি সদস্য শাহ আলম চুন্নুকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছিল। মামলার প্রাথমিক তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ মেলায় মামলাটি রুজু করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিলের সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুন নেছা ওই আসামিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ আবু সুফিয়ান ছিলো মাদ্রাসা ছাত্র, সে কোনদিন দিন মজুরি কাজ করেনি। একই অভিযোগ তুলেন সুফিয়ানের মা তিনিও জানান, আবু সুফিয়ানেরে দিয়ে আমি কাজ করাইনি। কেউ যদি তার নামে ভুয়া একাউন্ড খুলে তাকে শ্রমিক দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাত করে থাকে তাহাতে আমাদের কি করার আছে। সুফিয়ানের বাবা সুলতান দফাদার জানান, আমার ছেলে মাদ্রাসায় পড়া অবস্থায় ২০১৯ সালে মারা গেছে। তার নামে কে কি করছে আমাদের জানা নেই। সুফিয়ানের চাচা শিক্ষক জসিম (০১৯১১২০৪৪৩০)বলেন, আমার ভাতিজা মৃত্যুতে আমি নিজেই ২০১৯ সালে জানাজা দিয়েছি। সে কোন দিন শ্রমিক ছিলো না এমনকি সে কোন ব্যাংকে একাউন্ড করেনি। তিনি আরও জানান, আমি সুনেছি সুফিয়ানের নাম দিয়ে প্রায় সাত লাখ টাকা ভুয়া একাউন্ড খুলে ইউপি সদস্য শাহআলম চুন্নু সরকারি টাকা আত্মসাত করেছে। আমি চাই ওই প্রতারক ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে আইনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হউক।
মামলার বাদী নিজেই তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, কোনো বিশেষ সুবিধা বা অনৈতিক প্রভাবের বশবর্তী হয়ে আসামিকে বাঁচাতে এই ধরনের প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। সাধারণত দুদকের মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিকে অব্যাহতি দিতে হলে শক্তিশালী যুক্তি ও প্রমাণের অভাব দেখাতে হয়, যা এই ক্ষেত্রে বিতর্কিত বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী এনায়েত হোসেন বাচ্চুর মতে, তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা কমিশন বা আদালত খতিয়ে দেখতে পারেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে বিভাগীয় পর্যায়ে অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত উপসহকারী পরিচালক মনিরুন নেছার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দুদকের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা কমিশন বা আদালত খতিয়ে দেখতে পারে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এজারভুক্ত আসামীকে মামলা থেকে অব্যাহিত দেওয়ার সুযোগ থাকে না। কেনও বাধ দিয়েছে বিষয়টি দেখা হবে। দুদকের মতো একটি স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানে তদন্তকারীর এমন ভূমিকা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তারা বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।