গৌরনদী প্রতিনিধিঃবরিশালের গৌরনদী উপজেলার কাসেমাবাদ এলাকায় একটি আবাসিক মহিলা মাদ্রাসায় জান্নাতুল ফেরদৌস (১১) নামে এক ছাত্রীর রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনাটি স্বাভাবিক নয়; তারা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যার পর উপজেলার গেরাকুল গ্রামের সীমান্তবর্তী কাসেমাবাদ এলাকায় অবস্থিত মিফতাহুল জান্নাহ হিফজুল কুরআন মডেল মহিলা মাদ্রাসায় এ রহস্যজনক ঘটনা ঘটে।
নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস রাজশাহীর নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার নালুয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো.সান্টু মন্ডলের মেয়ে। পিতা প্রবাসে থাকার কারণে জান্নাতুল ফেরদৌস ছোট থেকেই মা সুবর্ণা বেগমের সঙ্গে গৌরনদীর কাসেমাবাদ গ্রামে তার নানা মরহুম সাহেব আলী ফকিরের বাড়িতে বসবাস করতেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি ওই মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে ভর্তি হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাসেমাবাদ এলাকায় জহির উদ্দিন আকনের একটি ভাড়া বাড়িতে গত বছরের নভেম্বর মাসে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন দক্ষিণ পিঙ্গলাকাঠী গ্রামের মো. শাহজাহান খন্দকারের ছেলে আবু ইউসুফ খন্দকার (২৬)। বর্তমানে দুইজন নারী শিক্ষিকার তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৫ জন ছাত্রী নিয়ে আবাসিক প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষিকাদের একজন নুর নাহার বেগম, যিনি প্রতিষ্ঠাতা আবু ইউসুফ খন্দকারের স্ত্রী।
মাদ্রাসার কয়েকজন ছাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যার পর একটি কক্ষের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে জানালার কাঁচ দিয়ে উঁকি দিয়ে তারা দেখতে পায়, কক্ষের ভেতরে একজন জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও দায়িত্বরত শিক্ষিকারা ছুটে এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তাৎক্ষনিক তারা তড়িঘড়ি করে ওই ছাত্রীকে নামানোর পর দেখেন সে (জান্নাতুল) মারা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে শিক্ষিকা নুর নাহার বেগম দাবি করেন, জান্নাতুল কক্ষের দরজা বন্ধ করে ওড়না দিয়ে জানালার গ্রিলের সাথে গলায় ফাঁস দিয়েছে ।
তবে নিহতের মা সুবর্ণা বেগম ও অন্যান্য স্বজন এ দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের ভাষ্য, জান্নাতুলের গলায় ফাঁসের স্পষ্ট কোনো দাগ তারা দেখেননি। বরং তার বুকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এ কারণে তারা ঘটনাটিকে রহস্যজনক বলে মনে করেন। সুষ্ঠু তদন্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন জান্নাতুলের স্বজনরা ।
খবর পেয়ে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে এ ঘটনায় নিহতের স্বজনদের কান্নায় এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
