নাইমুল ইসলাম, গৌরনদী প্রতিনিধিঃইতালির নেপলস শহরে স্থানীয় কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবকের বেপরোয়া আচরণের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ইতালি প্রবাসী যুবক আসাদুল ইসলাম (২৫)। দুর্ঘটনায় তার একটি হাত ভেঙে গেছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন থাকায় কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না তিনি। এতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে আসাদুলের জীবন।আসাদুল ইসলাম গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের খাঞ্জাপুর গ্রামের সেন্টু মৃধার ছেলে। ২০২৩ সাল থেকে তিনি ইতালির নেপলস শহরে বসবাস করে একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন।
আসাদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৩০ মে শনিবার কর্মস্থলের দায়িত্ব শেষ করে সাইকেলযোগে বাসায় ফেরার পথে নেপলস শহরের স্থানীয় কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা তাদের চলন্ত গাড়ি দিয়ে তার চলন্ত সাইকেলে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তার একটি হাত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। পরে সেখানে বসবাসরত কয়েকজন বাংলাদেশির সহায়তায় দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা তাকে দীর্ঘ সময় বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে বর্তমানে তিনি কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন এবং কর্মস্থলেও ফিরতে পারছেন না।
স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির কয়েকজন সদস্য জানান, ওই এলাকায় কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি প্রবাসীদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, ভিনদেশি কাউকে দেখলেই এসব যুবক প্রায়ই উত্ত্যক্ত করা, ভয়ভীতি প্রদর্শন করা, গাড়ি থেকে শরীরে পানি নিক্ষেপ করা এবং বিভিন্ন ধরনের বেপরোয়া আচরণ করে থাকে। আসাদুল ইসলামের ঘটনাটিও এমন আচরণেরই একটি উদাহরণ বলে তারা মনে করছেন। তারা আরও বলেন, ইতালির ওই সব যুবকের অনেকেরই পিতৃপরিচয় নেই বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ধারণা রয়েছে এবং তারা মাতৃপরিচয়ে চলাফেরা করে।
২০২৩ সালে ঋণ করে বৈধ পথে এগ্রিকালচারাল ভিসায় ইতালিতে যান আসাদুল ইসলাম। বিদেশে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে ঋণের বোঝা কমানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ঋণের চাপ পুরোপুরি কাটার আগেই এই দুর্ঘটনা তার জীবনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতা ও কর্মহীনতার কারণে তিনি চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
আসাদুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন যুবকের বেপরোয়া আচরণের শিকার হই। তারা গাড়ি দিয়ে আমার সাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে আমি সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হই। আমার একটি হাত ভেঙে গেছে। এখন চিকিৎসাধীন থাকায় কাজে যেতে পারছি না।”
তিনি আরও বলেন, “চিকিৎসার খরচ বেড়ে গেছে, অথচ বর্তমানে কোনো আয় নেই। এদিকে মাথার ওপর ঋণের চাপ এবং পরিবারের বড় ছেলে হওয়ায় পরিবার নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।”
এ ঘটনায় তার পরিবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা আসাদুল ইসলামের দ্রুত সুস্থতা কামনার পাশাপাশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
