নাজমুল হক মুন্না, উজিরপুর ::বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনন্য সাফল্যের নজির গড়েছে এ রহমান কিন্ডার গার্টেন স্কুল। ২০২৫ সালের পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন করায় বিদ্যালয়জুড়ে বইছে আনন্দের আমেজ। এই গৌরবময় অর্জন উদযাপন করতে বিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত উজিরপুর উপজেলার হস্তিশুন্ড গ্রামের এ রহমান কিন্ডারগার্টেন স্কুলটি শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি মানসম্মত শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনের মাধ্যমে এলাকায় একটি আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এবারের দুই ট্যালেন্টপুল বৃত্তি বিদ্যালয়ের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরপুর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও অদ্য অনুষ্ঠানের সভাপতি মো মাহাবুর রহমান, এইচ এম ইনস্টিটিউশনের সভাপতি মো. তারিক বিন হক (সবুজ), এইচ এম ইনস্টিটিউশনের সহকারী শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম মোল্লা, মাওলানা মো. মনিরুল ইসলাম, মো. আজাদ সরদার, সমাজসেবক মো. সেলিম হাওলাদার, মতিউর রহমান মানিক মোল্লা, সাইফুল ইসলাম ডাকুয়া, চৌমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ভবতোষ চক্রবর্তী এবং জিজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসান বালিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এমন সাফল্য পুরো উজিরপুরের জন্যই গর্বের বিষয়। তারা শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ রহমান কিন্ডারগার্টেন স্কুল আরও বেশি মেধাবী শিক্ষার্থী গড়ে তুলে উপজেলার শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সমাপনী বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট বি. এম. সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য ভবনের আকারে নয়, শিক্ষার্থীদের অর্জনের মধ্যেই নিহিত। বেসরকারি ভাবে পুরো উজিরপুরের মধ্যে এই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর এই ট্যালেন্টপুল বৃত্তি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমরা চাই, ভবিষ্যতে এ বিদ্যালয় থেকে আরও অনেক শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখুক।”
শেষে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়। বিদ্যালয়ের এই অর্জনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
