ঢাকা রবিবার , ৩ মে ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সদর উপজেলার চন্দ্রমোহনে হাজার কোটি টাকার সাবমেরিন ক্যাবল চুরির মহোৎসব পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

vorer angikar
মে ৩, ২০২৬ ১১:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল সদর উপজেলার ১০নং চন্দ্রমোহন ইউনিয়নে সরকারি সাবমেরিন ক্যাবল চুরির মাধ্যমে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহ আলম চুন্নু ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। সরকারি সম্পদ লুট করে ইউনিয়নের প্রায় দুটি গ্রামের মানুষ এখন ‘লাখপতি’, অথচ রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে বন্দর থানা পুলিশ।লুটপাটের হোতা যখন জনপ্রতিনিধি:অনুসন্ধানে জানা গেছে, চন্দ্রমোহন ইউনিয়নে সরকারি সাবমেরিন ক্যাবল চুরির মূল নিয়ন্ত্রণ ইউপি সদস্য শাহ আলম চুন্নুর হাতে। এই চুরির টাকায় চুন্নু এখন কোটি টাকার মালিক। শুধু তিনি নিজে নন, তার উঠতি বয়সী ছেলেরাও এলাকায় চলাফেরা করছে লাখপতি হিসেবে। এমনকি এই চুরির টাকায় চুন্নুর এক ভাই বিদেশে গিয়ে বর্তমানে রাজকীয় জীবন যাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বছর ক্যাবল চুরির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ২নং আসামি পান্না সিকদার বর্তমানে এলাকায় প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। চুরির টাকায় তিনি এখন একাধিক সিএনজির মালিক। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন পুলিশি মামলার আসামি হয়েও কীভাবে পান্না সিকদার এমন বিলাসী জীবন যাপন করছেন?গ্রামজুড়ে চুরির সিন্ডিকেট:অভিযোগ রয়েছে, চুন্নু মেম্বারের ছত্রচ্ছায়ায় ইউনিয়নের অন্তত দুটি গ্রামের একটি বড় অংশ সরাসরি এই সরকারি সম্পদ চুরির সাথে জড়িত। স্থানীয়রা জানান, দিনের পর দিন মাটির নিচ থেকে বা পানির তলদেশ থেকে মূল্যবান ক্যাবল কেটে বিক্রি করা হলেও দেখার কেউ নেই। এই অবৈধ আয়ের ভাগ পৌঁছে যাচ্ছে অনেকের পকেটে। বন্দর থানার নাকের ডগায় দিনের পর দিন সরকারি সম্পদ চুরির এই ‘মহোৎসব’ চললেও পুলিশের কোনো কার্যকর অভিযান নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের আয় বাড়লেও কমেনি চুরি। পুলিশের এই রহস্যজনক নীরবতা এবং অপরাধীদের সাথে সখ্যের কারণে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, “সবাই জানে কারা চোর, কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। পুলিশকে জানালে উল্টো আমাদের বিপদ হতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্দর থানাধীন পুলিশকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না; উল্টো চোরচক্রের সঙ্গে পুলিশি সখ্যের কারণে প্রতিনিয়ত লোপাট হচ্ছে সরকারি সম্পদ। ভোলা-বরিশাল বৈদ্যুতিক লাইনের এই ক্যাবল চুরির ফলে প্রতিদিন গড়ে ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগী ইউনিয়নবাসী। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, চন্দ্রমোহন ২নং ও ৩নং ওয়ার্ডের একটি দুর্র্ধষ চোরচক্র এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে। ক্যাবল চুরির টাকায় রাতারাতি লাখপতি বনে গেছেন অভিযুক্তরা। অভিযোগের তীরে আরো নাম উঠেছে, ৩নং ওয়ার্ডের শাহিন হাওলাদারের ছেলে রিদয় এবং সুলতান শরীফের ছেলে আফানসহ একদল উঠতি বয়সী যুবকের দিকে। স্থানীয়রা জানান, এই চক্রটিকে প্রত্যক্ষভাবে শেল্টার দিচ্ছেন স্থানীয় বিএনপির ছাত্রদল নেতা। কোনো পেশা না থাকলেও বিএনপির ছাত্রদলের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত রিদয়ের বাবা শাহিন হাওলাদার তার মাদকাসক্ত ছেলের ক্যাবল চুরির টাকায় বর্তমানে বাড়িতে বিশাল ভবন নির্মাণ করছেন বলে জানা গেছে। চন্দ্রমোহনবাসীর অভিযোগ, বন্দর থানা পুলিশ সব জেনেও না জানার ভান করছে। ডিউটিতে এসে পুলিশ সদস্যরা চোরচক্রের সদস্যদের সাথে বাজারে চা পান ও হাসিঠাট্টায় মগ্ন থাকেন। মামলার বিষয়ে বন্দর থানার ওসির কাছে বারবার ধরণা দিলেও তিনি কেবল ‘গ্রেপ্তার হবে’ বলে মাসের পর মাস সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে চোরচক্র আগের চেয়েও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ১৭৫ কেজি তামার তার (যার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা) চুরির ঘটনায় বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-৪, জিআর ১৪৬/২০২৬)। দণ্ডবিধির ৩৭৯/৪১১/৩৪ ধারায় মামলা হলেও রহস্যজনক কারণে প্রধান আসামি ছাড়া বাকিদের কাউকেই গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। এমনকি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিয়েও তালবাহানার অভিযোগ উঠেছে।বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে কোনো জোরালো পদক্ষেপ না আসায় চরম হতাশ চন্দ্রমোহন ইউনিয়নবাসী। সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত এই সিন্ডিকেট ও তাদের মদতদাতাদের আইনের আওতায় এনে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা হোক।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।