গৌরনদী প্রতিনিধি: বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নে প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছায় ধর্মান্তর ও বিয়ের ঘটনায় দায়ের করা অপহরণ মামলায় এক তরুণীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পূর্ব সমরসিংহ গ্রামের দীপক সরকার ও শীলা রানী সরকারের কন্যা দিপান্বীতা সরকার (বর্তমান নাম তাবাসসুম আক্তার নুর) মেদাকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রিতাজের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
পরিবারের অসম্মতির কারণে এক পর্যায়ে তিনি স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে রিতাজের সঙ্গে চলে যান। পরে আদালতের মাধ্যমে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং হলফনামার মাধ্যমে সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্মান্তরের পর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে তাবাসসুম আক্তার নুর রাখেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় দিপান্বীতার পিতা বাদী হয়ে তাকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগ তুলে গৌরনদী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে মাদারীপুর ও ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালায়।অভিযানে মাদারীপুর থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে একটি বাসা থেকে দিপান্বীতাকে উদ্ধার করে পুলিশ।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দিপান্বীতা দাবি করেন, তিনি স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছেন এবং নিজের ইচ্ছাতেই বিয়ে ও ধর্মান্তর করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, পারিবারের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।অন্যদিকে,দিপান্বীতার পরিবারের পক্ষ থেকে এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলা হয়েছে, তাকে প্রভাবিত করা হয়েছে এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বিয়ের ঘটনা ঘটেছে।এ বিষয়ে রিতাজের পরিবারের দাবি, দিপান্বীতা প্রাপ্তবয়স্ক এবং সম্পূর্ণ নিজ ইচ্ছায় ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করেছেন।গৌরনদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার করা তরুণীকে বুধবার (২৯এপ্রিল) দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে তার জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করেই মামলার পরবর্তী অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এখন সকলের নজর আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।
