ঢাকা রবিবার , ১২ এপ্রিল ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন এলজিইডির সড়ক ও পাইলিং কাজে ব্যাপক অনিয়ম, স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ

vorer angikar
এপ্রিল ১২, ২০২৬ ৭:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃবরিশাল সদর উপজেলার ১০নং চন্দ্রমোহন ইউনিয়নে এলজিইডির কোটি টাকা বরাদ্দের একটি সড়ক ও খালের পাইলিং কাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চন্দ্রমোহন বাজার থেকে ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট পর্যন্ত দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে এখন জনমনে চরম প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘ বছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী চন্দ্রমোহন বাজার-ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট সড়কটি পুনর্র্নিমাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। সড়কটি খালের পাশ দিয়ে হওয়ায় এর সুরক্ষায় কোটি টাকা ব্যয়ে পাইলিং করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই পাইলিং এর কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে খালের ভেতর পাইলিংয়ের ওপর যে মাটি ভরাট করা হয়েছে, তা মূলত খালের পাশ থেকেই ‘ভেকু’ দিয়ে কাটা হয়েছে। এতে পাইলিংয়ের গোড়া দুর্বল হয়ে যাচ্ছে এবং বর্ষার আগেই সড়কটি ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল সদর উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলামকে বারবার মৌখিক অভিযোগ জানালেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। উল্টো প্রকৌশলী ঠিকাদারের পক্ষ নিয়ে কাজ জায়েজ করার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। অভিযোগ উঠেছে, প্রকৌশলীর যোগসাজশেই ঠিকাদার দায়সারাভাবে কাজ শেষ করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কাজের ঠিকাদার স্থানীয় এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতা। তার রাজনৈতিক প্রভাব ও দাপটের কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে ভয় পাচ্ছেন। এলাকাবাসী জানান, বছরের পর বছর পায়ে হেঁটে যাতায়াতের কষ্ট ঘোচাতে এই সড়কটি ছিল তাদের একমাত্র আশা। কিন্তু এখন যেভাবে কাজ হচ্ছে, তাতে সরকারি অর্থ অপচয় ছাড়া আর কিছুই হবে না।
পাইলিংয়ের গা ঘেঁষে মাটি কাটার ফলে কাঠামোর স্থায়িত্ব এখন হুমকির মুখে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পাইলিং যদি ধসে যায় তবে পুরো সড়কটি খালের পেটে চলে যাবে এবং সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ।
কাজের অনিয়ম প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মাইনুল ইসলাম বলেন, “পাইলিংয়ের পাশ থেকে এভাবে মাটি কাটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এমনভাবে কাজ করলে ঠিকাদাররা মূলত নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে আনবেন। আমি এখনই কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিচ্ছি।” সচেতন নাগরিকের পক্ষ থেকে বিষয়টি তাকে অবহিত করায় তিনি ধন্যবাদও জ্ঞাপন করেন।
অন্যদিকে, কাজের এসব অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোসাঃ ফরিদা সুলতানা অবগত হয়েছেন। অভিযোগ শোনার পর তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, “আচ্ছা ঠিক আছে, বিষয়টি দেখছি।”

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।