ঢাকা মঙ্গলবার , ১৬ জানুয়ারি ২০২৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রাণ ফিরবে দখল দুষনে হারিয়ে যেতে বসা বরিশাল নগরীর ৭ খালে

vorer angikar
জানুয়ারি ১৬, ২০২৪ ৩:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কীর্তনখোলা নদী থেকে বরিশাল নগরীতে প্রবেশ করা ২৪ খাল দখল দুষনে যখন হারিয়ে যেতে বসেছে ঠিক তখনই ৭ খালে প্রাণ ফেরাতে খনন কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বরিশাল ৫ আসনের সংসদ সদস্য পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম ও সিটি মেয়র আবুল খাযের আব্দুল্লাহর প্রচেষ্টায় খাল গুলো পুনরায় নতুন করে প্রান ফিরে পাচ্ছে।

দখল দুষনে হারিয়ে যেতে বসা এই ৭ খালে পানির প্রবাহ ফেরাতে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে নগরীর কোলঘেঁষে বয়ে যাওয়া আমানতগঞ্জ, জেলখাল, রূপাতলী খাল, পলাশপুর খাল, সাগরদী খাল, চাঁদমারী খাল এবং ভাটারখাল দীর্ঘদিন পরে হলেও অস্তিত্ব ফিরে পেতে যাচ্ছে। একই সাথে ম্যাপ অনুযায়ী উদ্ধার হচ্ছে দখলকৃত খালের পাড়। খনন কাজ শেষ হলে নগরীর প্রায় সাড়ে ৫ লাখ বাসিন্দা জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ী মুক্তি লাভ করবে আশা সংশ্লিষ্টদের।

পর্যায়ক্রমে নগরীর মধ্যে থাকা ১১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ছোটবড় ৪৬ খালও আসবে সংস্কারের আওতায়। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পূর্বে বরিশালে ৪৬ টি খালের অস্তিত্ব ছিলো। তবে স্বাধীনতা পরবর্তী তা কমে দাঁড়ায় ২৪টিতে। বর্তমানে বড়-ছোট মিলিয়ে টিকে থাকা ২৪টি খাল অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দখল-দূষণ আর অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে মাড়াখালে পতিত হচ্ছে। আর হারিয়ে গেছে ২২টি খাল। তার মধ্যে এখন প্রাথমিক ভাবে ৭ টি প্রধান খালের খনন শুরু হওয়ায় আনন্দে ভাসছে ওই সব এলাকার বাসিন্দারা।

বরিশাল নগরীর ৭ খাল খননে ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় পলাশপুর খাল (১ কিলো ৭ শত মিটার), ১ কোটি ৯ লাখ টাকায় আমানতগঞ্জ খাল (২ কিলো ৫০ মিটার) , ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকায় সাগরদী খালের (৯ কিলোমিটার), ২৮ লাখ টাকায় রুপাতলী খাল ( ১ কিলোমিটার), ৩২ লাখ টাকায় চাঁদমারি খালের (১ কিলো ৪২১ মিটার), ৪ লাখ টাকায় ভাটার খাল (১৬০ মিটার) ও ২৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় জেল খালের ( ২ কিলোমিটার)। সর্বমোট ১৯ কিলোমিটারে পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়ানগর এলাকার মাহিমুল হাসান এমদাদ বলেন, বর্ষার মৌসুমে স্বাভাবিক জোয়ারে খাল উপচে সড়কে হাটু পানি জমে থাকে। ফলে তখন আমাদের যাতায়াতসহ স্বাভাবিক কাজ কর্ম বন্ধ হয়ে যায়। এখন খাল খনন হলে হয়তো ওই দূর্ভোগ থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি মিলবে। তিনি বলেন খাল খননের পাশাপাশি এই এলাকার সড়ক গুলো উচুকরে নির্মান না করলে সমস্যা থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা তেকেই যায়। তাই খাল খননের পাশাপাশি সড়কও উচু করে নির্মানের দাবী এমদাদ এর পাশাপাশি ওই এলাকার বাসিন্দাদের।

বরিশাল নগরীর বয়স্ক বাসিন্দা এম এস জামান মনোজ বলেন, এক সময় খালের পানি দিয়ে চা বানানো হতো, এখন তা শুধুই স্মৃতি। এখন খাল খনন করা হলে কীর্তনখোলা নদীর জোয়ার-ভাটার পানি প্রবাহিত হয়ে সেই পানি ফিরে আসবে। আর জলাব্দতা থেকে আমরা মুক্তিপাব এটা আনন্দের খবর।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন ওলিদ বলেন, ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর কাজ শুরু হয়েছে। যা আগামী ২০২৪ সালের জুনে শেষ হবে। কাজের মান ভালো দাবী করে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে, এতে করে আগামী বৃষ্টি মৌসুমে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলবে নগরবাসীর।

উল্লেখ্য, এই ৭ টি খাল খনন ও উদ্ধার এর জন্য ২০২২ সালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীম উদ্যোগ নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করতে গিয়ে বাধার মুখে পরেন ততৎকালিন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কতৃপক্ষের। এখন সেই বাধা কেটে গেছে নবনির্বচিত মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত আসায়। তাই নানা বাধা বিপত্তি পেরিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড খনন কাজ শুরু করেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।