নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সেনাবাহিনীর মেসে ও সিএমএইচ হাসপাতালে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে নুসরাত জান্নাত লাবনী নামে এক ভুয়া নারী সেনা ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে। নিজেকে লেবুখালী সেনানিবাসের ‘মেডিকেল ক্যাপ্টেন’ পরিচয় দিয়ে আইডি কার্ড প্রদর্শন ও ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে এই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয় একটি সুসংগঠিত চক্র।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত লাবনী বাকেরগঞ্জের দুধল গ্রামের নাসির উদ্দিনের মেয়ে এবং এক সরকারি সৈনিকের স্ত্রী। নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে টিকটকের মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদ ফেলা এবং কাবিনের টাকা হাতিয়ে নিতে এ পর্যন্ত অন্তত ৬টি বিয়ে করার তথ্য পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। এই প্রতারণায় তার সাথে সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে মর্জিনা, মিনু, আপেল, মনিকা ও সোহেল নামে একটি দালাল চক্র।
চক্রটি রূপাতলীর জুলেখা বেগমের ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও সালমার ৪০ হাজার টাকাসহ প্রায় ২১ জন নিরীহ মানুষের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে ভুক্তভোগীদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ভাইভার কথা বলে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে এনে সময় ক্ষেপণ করা এবং বাইরে থেকে রেশনের মালামাল কিনে পাঠাত লাবনী। এমনকি চাকরি নিশ্চিত বোঝাতে দু-এক মাসের ভুয়া বেতনও দেওয়া হতো।
প্রতারণার বিষয়টি টের পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হয়। কোনো সুরাহা না পেয়ে ভুক্তভোগীরা বরিশাল আদালতে দুটি পৃথক মামলা (সিআর-১৩৬৯/২০২৬ ও সিআর-১৩৭০/২০২৬, কোতোয়ালি) দায়ের করেন। গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে আদালত মামলা দুটি রুজু করে কোতোয়ালি থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে ভুয়া পরিচয়পত্র ও জন্মসনদ ব্যবহারকারী প্রতারক লাবনী এবং তার সহযোগী মর্জিনা ও মিনু বরিশাল থেকে আত্মগোপনে রয়েছে। ভুক্তভোগীদের কাছে চক্রটির প্রতারণার একাধিক অডিও-ভিডিও প্রমাণ রয়েছে, যা নিয়ে তারা খুব শীঘ্রই সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছে বিচার দাবি করবেন বলে জানিয়েছেন।
