নাজমুল হক মুন্না,:: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সানুহার-ধামুরা সড়কের প্রায় ৮ কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভাঙাচোরা সড়ক, খানাখন্দ ও কাদাপানিতে একাকার হয়ে থাকা এ সড়কে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পথচারীদের চলাচলও এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ফলে পাঁচ ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে সড়কটি। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতাল, বাজার, ব্যাংক কিংবা থানায় যেতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সানুহার-সাতলা সড়কের উন্নয়নকাজের জন্য গত অর্থবছরে তিনটি প্যাকেজে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে দুটি প্যাকেজের আওতায় প্রায় ১৬ কিলোমিটার সড়কের কাজ পায় ইফতি ইটিসিএল নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে কাজ শুরু না করে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করায় সড়কটির বর্তমান বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বুদবার (১ জুলাই ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাদা ও পানিতে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০-৩৫ হাজার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ বন্ধ রয়েছে। এতে স্কুল, কলেজ, নূরানি ও হাফেজি মাদরাসার শিক্ষার্থীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ডালিম শিকদার বলেন, “রাস্তার কারণে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দিন দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।”
অটোরিকশাচালক মো. সালাম বলেন, “সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।”
মাদরাসা শিক্ষার্থী উম্মে ফাতেমা বলে, “মাদরাসায় যাওয়ার পথে গাড়ির চাকার কাদায় পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। চলাচলে খুব সমস্যা হয়।”
উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় জানান, মোট ২৪ কিলোমিটার সড়কের কাজ তিনটি প্যাকেজে টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৮ কিলোমিটার সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। বাকি ১৬ কিলোমিটার সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “সড়কের অবশিষ্ট অংশের জন্য নতুন করে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।”
ইফতি ইটিসিএল-এর কর্ণধার মহিউদ্দীন মহারাজ দেশের বাইরে অবস্থান করায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা বলেন, “সড়কের বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। দ্রুত সংস্কারকাজ শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি এখন এলাকাবাসীর জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
