অনলাইন ডেস্ক : উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের বরতা গ্রামের নাদিম মিরা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসা এবং সরকারি খাল দখলের অভিযোগে পরিচিত, বর্তমানে বরতা জয়শ্রী বাসস্ট্যান্ডের বাইতুন নুর জামে মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছেন। অতীতে একাধিক মাদক মামলার আসামি হওয়ায় তার আচরণ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় মুসল্লি ও বরতা–জয়শ্রী এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে নাদিম মিরার রাজনৈতিক পরিচয় বদলে ফেলার প্রবণতা বহুদিনের। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর তিনি হঠাৎ লম্বা পাঞ্জাবি ও টুপি পরে ধর্মীয় ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা শুরু করেন, যাতে তার অতীত অপরাধ আড়াল করা যায়।
গত ২৩ নভেম্বর (রবিবার) বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোকসেদ মিয়া (দুলাল)এর নিজস্ব চাষকৃত পুকুরে নাদিম মিরা জোরপূর্বক মাছ ফেলতে গেলে তার ভাই আবু ছালেক মিয়া এবং ভাতিজা গোলাম মহিউদ্দিন সেলিম বাধা দেন। অভিযোগ রয়েছে, বাধা দেওয়ার পর নাদিম মিরা তাদের মারধরের হুমকি দেন এবং ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।
মসজিদের পাশের কম্পিউটার ও ফটোকপি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন জানান, কয়েক মাস আগে এক মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি মসজিদের পাশে আশ্রয় নিলে নাদিম মিরা তাকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মসজিদের ইমাম থেকে শুরু করে নামাজ পড়তে আসা সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গেও নাদিম মিরা প্রায়ই অশোভন আচরণ করে থাকে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
বাইতুন নুর জামে মসজিদের কয়েকজন মুসল্লি জানান, নাদিম মিরা বর্তমানে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তার অতীত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে মসজিদ কমিটির আপত্তি রয়েছে। কমিটি তাকে সতর্ক করলে তিনি হুমকি দেন, আওয়ামী লীগের দোষর বানিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর।
এ বিষয়ে শিকারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুখ মোল্লা বলেন, নাদিম মিরা বিএনপি করে এমন তথ্য আমাদের জানা নেই।
