ঢাকা বুধবার , ৮ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হানি ট্রাপারার সাবিনা বেপরোয়া, টার্গেট সেনা সদস্যরা

ভোরের অঙ্গীকার ডেস্ক
জুলাই ৮, ২০২৬ ১:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকের মাধ্যমে পরিচয়, চ্যাটিংয়ের আড়ালে শরীরের স্পর্শকাতর স্থান প্রদর্শনের মাধ্যমে বিভিন্ন যুবকদের প্রলুব্ধ করে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন পরবর্তীতে পেশাগত, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ভাবে অপুরনীয় ক্ষতি করার অভিযোগ ঊঠেছে দেওয়ানগঞ্জ-জামালপুরে কর্মরত বাংলাদেশ রেলওেয়ের গেট কিপার এবং বাগেরহাট জেলাধীন মোড়লগঞ্জ উপজেলার কুমারিয়া জোলার মহিষচরণী গ্রামের বাসিন্দা সারোয়ার মল্লিকের মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে। তবে,সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপার হচ্ছে, অভিযুক্ত সাবিনা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর সদস্যদের বেছে নিচ্ছেন তার শিকার হিসেবে।

একের পর এক সেনাসদস্যকে তার বিছানো ফাঁদে ফেলে ফায়দা লোটাই বর্তমানে সাবিনার প্রধান এজেন্ডা। এমনকি তার মিশন সফল না হলে মিথ্যা অভিযোগে চাকুরিও খুইয়েছেন সেনাসদস্য। বিষয়টি বিভিন্ন পন্থায় রেলওেয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অবহিত করলেও অজানা কারনে তার বিরুদ্ধে কোন বিভাগীয় ব্যাবস্থা গ্রহন না করায় বর্তমানে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে সাবিনা। একের পর এক মামলা দায়ের, আসামীর তালিকায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে রাম-রাজত্ব কায়েম করার মিশনে তৎপর রয়েছে সাবিনা।

প্রতিবেদকের হাতে আসা বিভিন্ন মামলার নথি, ভিডিও ক্লিপ, অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ছবি এবং একাধিক সুত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত সাবিনা ইয়াসমিন বাংলাদেশ রেলওেয়ের লেভেল ক্রসিংয়ের গেট কিপারের চাকুরীর পাশাপাশি টিকটকে সক্রিয় থেকে ” রিকশাওয়ালার বউ”৷ নামে একটি আইডি পরিচালনার ছদ্মবেশে বিভিন্ন ব্যাক্তি বিশেষ করে দেশের গর্ব সেনাসদস্যদের টার্গেট করে হানি ট্রাপে ফেলার ছক তৈরি করেন। তার এই ফাঁদে পা ফালান সাতক্ষিরার শ্যামনগর নিবাসী জালাল উদ্দিন শেখের পুত্র সেনাসদস্য সাদেক। দীর্ঘদিন যাবত অনলাইনে ভিডিও কলে অশ্লীলভাবে নিজেকে প্রদর্শন করে সেগুলো রেকর্ড রেখে সাদেককে ব্লাকমেইল করার চেষ্টা করে।
পরবর্তীতে সেনাসদস্য সাদিক সাবিনার বিভিন্ন অপকর্মের খবর অবগত হলে হানি ট্রাপ গ্রুপের হাত থেকে রক্ষা পেতে যোগাযোগ বন্ধ করার চেষ্টা করতেই বেরিয়ে আসে সাবিনার আসল রুপ। নিজের কাছে রক্ষিত ভিডিও ফুটেজকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার করে মোটা টাকা হাতিয়ে নিয়েও ক্ষান্ত হননি সাবিনা। আরও অর্থের লোভে চলে যায় সাদেকের বাড়িতে। কিন্তু সাদেক এবং তার পরিবারের সদস্যরা তার দাবী মেনে না নেয়ায় সাবিনা ২০২৩ সালের ১৩’ই নভেম্বর সিরাজগঞ্জ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন স্পেশাল ট্রাইবুনালে মামলা দায়েরের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন।তথ্যমতে,বর্তমানে সাদেকের বিরুদ্ধে সাবিনার দায়ের করা মামলা চলমান আছে।

এরই ফাঁকে নতুন মিশনের খোঁজে থাকে সাবিনা। সফলতাও ধরা দেয় তাকে। পুর্বের পদ্ধতি অনুসরণ করে পরিচয় হয় ঝালকাঠি জেলার নলছিটি পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা (অব: সেনাসদস্য) আবুল বাসার খানের পুত্র এবং বর্তমানে বান্দরবনের রুমায় কর্মরত সেনা সদস্য সাইফুলের সাথে। তাকেও পুর্বের পদ্বতিতে ব্লাকমেইল করার একপর্যায়ে সুবিধা করতে না পেরে সাইফুল, তার পিতা (অব: সেনাসদস্য) বাসার খানসহ পরিবারের নির্দোষ অন্যান্য সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে পটুয়াখালী আদালতে মামলা দায়ের করে। এখানেই ক্ষান্ত দেয়নি সাবিনা।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আরও চমকপ্রদ তথ্য। এই হানি ট্রাপার সাবিনা ময়মনসিংহ জেলার হুমায়ুন নামে আরও এক সেনাসদস্যকে তার ফাঁদে ফেলে তাকে বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী জানান, সাবিনা বিভিন্ন কৌশলে বিভিন্ন ব্যাক্তি বিশেষ করে সেনাসদস্যদের টার্গেট করেন এবং মিশন পুর্ন না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন পদ্বতিতে তার অপরাধ অব্যাহত রাখেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাবিনা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।