নাইমুল ইসলাম, গৌরনদী প্রতিনিধি:
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রোধে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক ৬-লেনে উন্নীত করার দাবিতে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচি চলাকালে একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক অবরোধ করলে উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেলের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।শুক্রবার (২৬ জুন) জুমার নামাজের পর খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী, শিশু, প্রবীণ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা ও পরিবহন শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার। সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সালাউদ্দিন সরদার, সাবেক বিএনপি নেতা নলুৎপুর রহমান মোল্লা, ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ড মসজিদের ইমাম মুফতি ওমর ফারুক, সাবেক উপজেলা ছাত্রদল নেতা ইলিয়াস সরদার, মুফতি আমিনুল ইসলাম, আতিক মৃধা এবং ব্যবসায়ী জুয়েল হাওলাদারসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু মহাসড়কটি এখনো দুই লেন হওয়ায় প্রায়ই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে নিয়মিত প্রাণহানি, গুরুতর আহত ও পঙ্গুত্বের ঘটনা বাড়ছে। গৌরনদীসহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ এখন দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পরিণত হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সালাউদ্দিন সরদার বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল বেড়েছে। তিনি পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক ৬-লেনে উন্নীত করার দাবি জানান।
সাবেক বিএনপি নেতা লুৎফর রহমান মোল্লা বলেন, বর্তমান যানবাহনের চাপ বিবেচনায় দ্রুত মহাসড়ক প্রশস্ত না করা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছোটন হাওলাদার বলেন, শুধু দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নয়, জাতীয় অর্থনীতির গতিশীলতার জন্যও মহাসড়কটি চার লেনের মূল সড়ক ও দুই পাশে সার্ভিস লেনসহ মোট ৬-লেনে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি।
মানববন্ধনের আয়োজক ও সাবেক বরিশাল জেলা ছাত্রদল নেতা এনাম তালুকদার বলেন, কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে এই রুটে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করছে। কিন্তু সরু সড়কের কারণে প্রায়ই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে। তিনি দ্রুত ৬-লেন বাস্তবায়নের দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক ৬-লেনে উন্নীত করার কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তারা।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ‘নিরাপদ সড়ক চাই, জীবন বাঁচাতে ৬-লেন মহাসড়ক চাই’ এবং ‘প্রাণহানি নয়, নিরাপদ মহাসড়ক চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে ‘ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৬-লেন মহাসড়ক চাই’ স্লোগান দিতে থাকেন। এতে উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং জনদুর্ভোগ বাড়ে।
খবর পেয়ে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিক হাসান রাসেল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দাবি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরে তার আশ্বাসের ভিত্তিতে আন্দোলনকারীরা সাময়িকভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
