ঢাকা মঙ্গলবার , ১১ আগস্ট ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অন্তঃস্বত্তা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যা না আত্মহত্যা

ভোরের অঙ্গীকার ডেস্ক
আগস্ট ১১, ২০২৬ ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গৌরনদী প্রতিনিধিঃআড়াই মাসের অন্তঃস্বত্তা গৃহবধূর হাঁটু পর্যন্ত ফ্লোরে ঝুলানো অবস্থায় গলায় ফাঁস দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার টরকী বন্দর এলাকার।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নাম্বারের ফোন পেয়ে সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাত তিনটার দিকে গৌরনদীর টরকী বন্দর ছাগলহাটা এলাকার জনৈক মন্টু সরদারের ভাড়াটিয়া বাসা থেকে পুলিশ মৃত মোমেনা বেগমের (২৪) মরদেহ উদ্ধার করেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মৃতের মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্তে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। মৃতের খালাতো ভাই ওমর ফারুক মঙ্গলবার দুপুরেঅভিযোগ করে বলেন, মৃত মোমেনা বেগম ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার কানারামপুর গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ মিয়ার কন্যা। সে (মোমেনা) কর্মের সুবাদে দীর্ঘদিন থেকে দুবাইতে বসবাস করে আসছিলো। দুবাইতে বসে মোমেনার সাথে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহাগ রাঢ়ীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে মোমেনা ও সোহাগের মধ্যে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক ও পরে গত তিনবছর পূর্বে দুবাইতে বসে তাদের বিয়ে হয়। বর্তমানে মোমেনা বেগম আড়াই মাসের অন্তঃস্বত্তা। যেকারণে গত ১৫দিন পূর্বে স্বামী সোহাগ রাঢ়ী তার অন্তঃস্বত্তা স্ত্রী মোমেনা বেগমকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন। সেই থেকে মোমেনা গৌরনদীর টরকী বন্দরের ছাগলহাটা এলাকার জনৈক মন্টু সরদারের ভাড়াটিয়া বাসায় শাশুড়ি, দেবর ও জায়ের সাথে বসবাস করে আসছিলেন। মোমেনার জা দিনা বেগম তারই (মোমেনা) আপন ছোট বোন। মোমেনার বিয়ের পর তার অপর প্রবাসী দেবর রায়হান রাঢ়ীর সাথে এক বছর পূর্বে দিনা বেগমের সামাজিকভাবে বিয়ে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান বলেন, রাত বারোটার দিকে বিদেশ থেকে তার বন্ধু মোমেনার স্বামী সোহাগ ফোন করে তাকে জানিয়েছে মোমেনার রুমের দরজা বন্দ। তাই তাকে (জিয়াউর) বাসায় যেতে বলেন। তিনি অপর এক ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে মোমেনার রুমের দরজা বন্দ দেখতে পান। পরবর্তীতে বাসায় থাকা মোমেনার দেবর রাহাত রাঢ়ী (১৭) ও তার মায়ের সহযোগিতায় রুমের দরজা ভাঙ্গেন। দরজা ভাঙ্গার পর তারা ভিতরে গিয়ে দেখতে পান রুমের জানালার গ্রীলের সাথে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় রয়েছেন মোমেনা। তবে তার পা হাঁটু পর্যন্ত ফ্লোরের সাথে ছিলো। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা নাম্বারে কল করে বিষয়টি জানানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। মৃত মোমেনার বাবা মো. আব্দুল্লাহ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। ছোট মেয়ে দিনা বেগম বাসায় না থাকার সুযোগে প্রবাসী সোহাগের প্ররোচনায় তার ছোটভাই ও মা মিলে মোমেনাকে হত্যা করেছে। পরবর্তীতে তড়িঘড়ি করে মোমেনার মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি (আব্দুল্লাহ) পুরো ঘটনার সঠিক তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ওসি আরও জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মৃত মোমেনা বেগমের শাশুড়ি ও দেবরকে থানায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় মৃতের বাবার পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তারও তদন্ত করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।