নিজস্ব প্রতিবেদকঃবরিশাল নগরীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র বেলস্ পার্ক দীর্ঘদিন যাবত ছিল অবৈধ ভ্রাম্যমাণ হকারদের দখলে। প্রতিদিন এই মাঠে ঘুরতে আসা হাজার হাজার মানুষ খোলা বাতাসে নি:শ্বাস নিতে আসলেও তাদের নাকে যেত মুখরোচক নানা ধরনের স্ট্রিট ফুডের ঘ্রাণ। শুধু তাই নয়, ক্কেত্র বিশেষ মনে হতো দর্শনার্থীদের চেয়ে হকারদের সংখ্যা বেশী। পাশাপাশি ছিল বখাটে এবং মাদকসেবিদের দৌরাত্ম। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবং এই মাঠটি হকারমুক্ত করার দাবির পরিপেক্ষিতে বিসিসির জনপ্রিয় প্রশাসক এড. বিলকিস জাহান শিরিন বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে অবৈধ সকল হকারদের উচ্ছেদ করেন। শুধু উচ্ছেদই নয়,নতুম ভাবে কেউ যেন দখল করতে না পারে সেই লক্ষে প্রধান দুইটি প্রবেশ পথে বসিয়েছেন স্টিল গেট। ফলশ্রুতিতে, এখানে ভ্রমন করতে আসা নগরবাসী স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলানোর পাশাপাশি প্রশংসা করেছেন বিসিসি প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিন এর। তবে, গত মংগলবার উচ্ছেদকৃত ব্যাবসায়ীরা একজোট হয়ে পুনরায় ব্যাবসা করার দাবীতে মানববন্ধন এবং সড়ক অবরোধ করলে,,,,
ছড়িয়ে পরে সাধারণ নগরবাসীর মধ্যে। অনেকেই মন্তব্য করছেন, এই আন্দোলন এড. বিলকিস জাহান শিরিনকে বিব্রত করা এবং প্রশাসনের ভিতর ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিস্ট সরকারের অনুসারীদের গোপন মিশন। কারন হিসেবে প্রতিদিন হকারদের কাছ থেকে মোটা টাকার চাঁদা তোলা অন্যতম। তবে সচেতন মহলের দাবি, বর্তমান প্রশাসক দ্বায়িত্ব নেয়ার পর থেকে সকল ধরনের রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে বীরদর্পে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেই থেমে থাকেননি, নগরবাসীকে আরও বিনোদন দেয়ার উদ্দেশ্যে হাতে নিয়েছেন সৌন্দর্য বর্ধন বিভিন্ন প্রকল্প। যার মধ্যে অন্যতম চৌমাথা লেকের পাড় অবৈধ দখলদার মুক্ত করে মিউজিক্যাল ফোয়ারা নির্মান,,রাজাবাহাদুর সড়ককে সেলফি রোডে পরিনত অন্যতম। ঠিক এই মুহুর্তে উচ্ছেদকৃত হকারদের ব্যানারে কারা আন্দোলন করছেন এবং কেন করছেন সেটা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজ। ভোরে এই মাঠে হাটতে আসা প্রাত:রাশ কমিটির সদস্য প্রফেসর শাহিনুজ্জামান ভোরের অঙ্গীকারকে বলেন,বেলস্ পার্ক বরিশাল নগরীর অন্যতম একটি বিনোদন কেন্দ্র। বিগত দিনে এই মাঠ দখল করা ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদের উচ্ছেদ করতে গেলেও বিভিন্ন কারনে তা ব্যার্থ হয়। তবে,এবার কোনভাবেই যেন পুনরায় অবৈধ দখলদাররা এই মাঠে বসতে না পারে,সেদিকে আমাদের সকলের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেন তোতা বলেন, উচ্ছেদকৃত হকারদের ধাপে ধাপে পুনর্বাসনের ব্যাবস্থা নিচ্ছেন মেয়র মহাদয়। আমি হকারদের অনুরোধ করেছি, তারা যেন একটু ধৈর্য ধারন করেন। আমি তাদের বিভিন্ন স্থানে অল্প অল্প করে বসার অনুরোধ করেছি কিন্তু তারা একত্রে বসতে চাচ্ছে। যার কারনেই তাদের এই আন্দোলন।জানতে চাইলে ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হাসান দুলাল বলেন, আন্দোলনকারীদের আমরা বলেছি মেয়র মহাদয়ের উপর ভরসা রাখতে। তিনি সকলের কথা চিন্তা করে পর্যায়ক্রমে প্রকৃত হকারদের পুনর্বাসন করবেন। এছাড়াও, দীর্ঘদিন যারা আমাদের সাথে রাজনীতি করেছেন তাদের বিষয়টিও মাথায় রেখেছেন তিনি।
