বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি : মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নসহ ন্যায্য পাওনা আদায়ের দাবিতে সংগঠিত হচ্ছেন এমপিওভুক্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। সারাদেশের অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ করতে বরিশাল থেকে আত্মপ্রকাশ করেছে “অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি”।
এ লক্ষ্যে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ হলরুমে বরিশাল সদর ও বাবুগঞ্জ উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অধ্যাপক মো. শাহে আলম-কে সভাপতি এবং মো. হারুন অর রশিদ-কে সাধারণ সম্পাদক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট বাবুগঞ্জ উপজেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়।
বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আ.ন.ম. আ. হালিম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র পাল ও সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক।
গত ২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে নগরীর তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মহিলা কলেজে এক সভার মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল জেলা কমিটি ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংগঠনটি দাবী আদায়ের আন্দোলন জোরদার করছে।
সংগঠনের জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র পাল জানান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিশ্ব কর্মী দাসের করা রিট পিটিশন নং ১৩১১৮/২০১৯ এর প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তারিখে প্রদত্ত রায়ে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা তাদের প্রবৃদ্ধিসহ সর্বশেষ মূল বেতনের ১৬৬ মাসের সমপরিমাণ অর্থ অবসর গ্রহণের ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “হাইকোর্টের এই সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর আমাদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধে গড়িমসি করা হচ্ছে। আমরা এই বৈষম্য আর মেনে নেব না।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক বলেন, “আমরা পাঁচ দফা দাবিতে সংগঠিত হচ্ছি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ, ছয় মাসের বেশি বিলম্ব হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিপি ফান্ডের সুদের হারে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা প্রদান, অবসর ও কল্যাণ তহবিলে কর্তিত টাকার সুস্পষ্ট হিসাব শিট প্রকাশ, সর্বশেষ মূল বেতন স্কেল অনুযায়ী ভাতা নির্ধারণ এবং সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ও বিশেষ ভাতা প্রদান।”
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই সারাদেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ আ.ক.ম. মো. মিজানুর রহমান, সাবেক উপাধ্যক্ষ মো. মকবুল হোসেন, সাবেক অধ্যক্ষ মো. আবুল কাসেম, অধ্যক্ষ বিপুল বিহারী, অধ্যক্ষ ফারুক বিন অহিদ, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. খলিলুর রহমান, সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুল কাদের মাল ও সাবেক সুপার মাওলানা মো. হান্নানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।
সভায় বক্তারা বলেন, “এটি কোনো দয়া নয়, এটি আমাদের ঘামের টাকা। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বছরের পর বছর ঘুরতে ঘুরতে অনেক শিক্ষক শেষ বয়সে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। এই মানবিক সংকট নিরসনে সরকারকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হাইকোর্টের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আগামী দিনে আন্দোলন-সংগ্রাম আরও জোরদার করা হবে এবং দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
