ঢাকা শুক্রবার , ১২ জানুয়ারি ২০২৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শীতে ব্যথা-যন্ত্রণা দূর করার ঘরোয়া সমাধান

vorer angikar
জানুয়ারি ১২, ২০২৪ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

শীতে জয়েন্টে ব্যথা মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়। শীত জাঁকিয়ে পড়লেই কোমর, ঘাড় আর হাঁটুর ব্যথা চেপে ধরে অনেককে। এ সময় যারা আর্থরাইটিস, রিওমাটয়েড আর্থরাইটিস ও অস্ট্রিওআর্থরাইটিসের মতো হাড়ক্ষয় রোগে ভুগছেন তাদের কষ্ট বহুলাংশে বেড়ে যায়। এ ছাড়া পেশি, লিগামেন্ট, হাড় ও স্নায়ুর ব্যথাও তীব্র হয়। শীতের প্রকোপে দীর্ঘক্ষণ একটানা জড়সড় হয়ে শুয়ে থাকায় মেরুদণ্ড তার স্বাভাবিক আকার হারায়। তারই প্রভাব পড়ে হাড়ে। এ সময় ঘাড়, কোমর, হাঁটু, কটি, গোড়ালি, কাঁধ, কনুই ও কবজিতে ব্যথা হয়। হাত সামনে পেছনে নেওয়া এবং হাত দিয়ে কিছু তোলা কষ্টকর হয়। হাঁটু ও কোমর সোজা অবস্থা থেকে ভাঁজ করতে এবং বসতে বা উঠতে অসুবিধা হয়।

শীতের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে অনেকের প্রবণতাই হল ঘরের গরমে জবুথবু হয়ে বসে থাকা। এককথায়, নট নড়ন চড়ন। এর ফলে অস্থিসন্ধিগুলোর রেঞ্জ অফ মুভমেন্টে টান ধরে। সঙ্গে পেশীর তাপমাত্রা বাড়তেও অনেক সময় লাগে। ফলে ঠান্ডায় বাড়ে গাঁটের ব্যথা।

আবার অনেক সময় শরীরে ভিটামিন ডি ও ক্যালশিয়াম কম থাকলেও হাড়ের সমস্যা দেখা দেয়। শীতে যেহেতু রোদের তেজ কম থাকে, তাই শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব দেখা দেয়। বিশেষত, এই সময় হাঁটুতে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, ঘাড়ে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে এমন নয় যে, এই সমস্যাকে আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। শীতের দিনে ব্যথা বাড়লে আপনি ঘরোয়া উপায়ের উপর ভরসা রাখতে পারেন। এমন বেশ কিছু টোটকা রয়েছে, যা শীতের দিনে আপনাকে ব্যথা, যন্ত্রণা থেকে দূরে রাখতে পারে। দেখে নিন সেগুলো কী-কী…

ফল ও ফলের রস, সতেজ শাকসবজিসহ উপযুক্ত খাবার শীতকালে আর্থরাইটিস বা বাত-ব্যথার তীব্রতা কমাতে সহায়তা করে। গাজর, শসা, মুলা ইত্যাদি সবজি ব্যথা সৃষ্টিকারী পদার্থ শরীর থেকে বের করে দেয়। পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘ডি’, ‘এ’ ও ‘সি’ খেতে হবে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ওজন বাড়লে হাঁটুতে, পায়ের পাতায় চাপ পড়ে। এতে হাঁটুর যন্ত্রণা বাড়ে। এই সমস্যাকে এড়ানোর জন্য আপনাকে ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এছাড়াও হাঁটুর ব্যথাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপনি তেল মালিশ করতে পারেন। সর্ষের তেলের সঙ্গে রসুন কুচি ফুটিয়ে নিন। এই তেল দিয়ে আপনি হাঁটু মালিশ করতে পারেন।

শীতে গাঁটের ব্যথা বাড়লে গরম সেঁক দিতে পারেন। প্রাথমিকভাবে, গরম সেঁক দিলে আপনি গাঁটের ব্যথা থেকে সাময়িক আরাম পেতে পারেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে যদি গাঁটের ব্যথা বা বাতের ব্যথায় ভোগেন, তাহলে আপনি শীতে ফিজিওথেরাপির সাহায্য নিতে পারেন। ব্যথা, যন্ত্রণায় ফিজিওথেরাপি দারুণ উপযোগী।

শীতের দিনে ব্যথা, যন্ত্রণা থেকে দূরে থাকতে ডায়েটের দিকেও নজর দিন। আদা ও লেবুর রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে সকালে এবং রাতে পান করলে আর্থরাইটিসের ব্যথা কমে যায়। এতে শরীর গরমও থাকবে। আদার অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। একই কাজ করে হলুদও। হলুদের কারকিউমিন উপাদান আপনাকে ব্যথা, যন্ত্রণা থেকে দূরে রাখবে।

সকালে খালি পেটে রসুন খাওয়া রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং জয়েন্টে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখে বলে ব্যথা কম অনুভূত হয়। শীতের সকালে এক কোয়া করে কাঁচা রসুন খেতে পারেন। এতেও উপকার পাবেন।

চিকিৎসকদের মতে, গাঁটের ব্যথা কমাতে ক্যাপসাইসিন খুবই কার্যকরী একটি উপাদান। লাল মরিচে মিলবে এই ক্যাপসাইসিন। আধ-কাপ নারকেল তেলে দু’চামচ মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে ব্যথার জায়গায় ২০ মিনিট ধরে মালিশ করুন। এর পর হালকা গরম জায়গাটা ভাল করে পরিষ্কার করে ফেলুন। দিনে অন্তত ৩-৪ বার এই ভাবে মালিশ করলে গাঁটের ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে।

পুদিনা পাতায় মেনথল নামে একটি উপাদান আছে, যা ধনুষ্টংকার রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এছাড়া, এর তেল পায়ের কজ্বি ও গোড়ালীতে মালিশে ব্যথা উপশম হয়। এমনকি মাথা ব্যথায় পুদিনা পাতা কপালে ঘষলেও ব্যথা উপশম হয়।

গোসলের গরম পানিতে এপসম লবণ মিশিয়ে গোসল করুন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এপসম লবণ ব্যথা, যন্ত্রণা থেকে উপশম দিতে সহায়ক। গোসলের পানিতে এক চিমটে এপসম লবণ মিশিয়ে দিন। দেখবেন, শীতে গা, হাত, পায়ের ব্যথা, যন্ত্রণা অনেকটা কমে গিয়েছে।

শীতকালে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা কমানোর জন্য উষ্ণ থাকার ব্যাপারে গুরুত্ব দিন। শীত পোশাক, স্কার্ফ, গ্লাভস এবং টুপি শরীরের তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পেশি এবং অস্থিসন্ধিগুলো শক্ত হতে বাধা দেয়। শরীরের যেসব স্থানে বেশি ব্যথা অনুভব করেন সেসব স্থান উষ্ণ রাখতে গরম কাপড় এবং প্রয়োজনে কম্বল ব্যবহার করুন।

ঠান্ডা আবহাওয়ায় সহজেই ডিহাইড্রেশন হতে পারে, যা ব্যথার উপসর্গ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ভেষজ চা এবং স্যুপের মতো উষ্ণ তরল পর্যাপ্ত পরিমাণে পান করলে হাইড্রেটেড থাকতে পারবেন। পাশাপাশি ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ খাবার-যেমন ফ্যাটি মাছ, বাদাম, রঙিন ফল ও শাকসবজি ব্যথা কমাতে অবদান রাখতে পারে।

ব্যথা কমাতে শরীরের ব্যথাযুক্ত স্থানে হিটিং প্যাড ব্যবহার করুন। শীতে ব্যথা কমাতে নিয়মিত হালকা গরম পানিতে গোসল করুন। এটি শরীরে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে, মাংসপেশির শক্তভাব কমাতে এবং ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে।

দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা কমানোর জন্য পর্যাপ্ত ঘুম খুবই জরুরি। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ঘুমাতে যান এবং আরামদায়ক ঘুমের পরিবেশ তৈরি করুন। শরীরের সংবেদনশীল স্থানে চাপ কমাতে সহায়ক বালিশ বা কুশন ব্যবহার করতে পারেন।

দৈনন্দিন রুটিনে মৃদু ব্যায়াম এবং স্ট্রেচিং অন্তর্ভুক্ত করুন। এই অভ্যাস অস্থিসন্ধি এবং পেশি নমনীয় রাখতে সাহায্য করে। হাঁটা, সাঁতার বা যোগব্যায়ামের মতো কর্মকাণ্ড শরীরে অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। তবে কোন ব্যথার জন্য কোন ধরনের ব্যায়াম করবেন সে ব্যাপারে থেরাপিস্টের সাহায্য নেয়া ভালো।

তবে শীতে এমন গাঁটের ব্যথা কমাতে কিছু উপায়ে ভরসা রখতেই হয়। জড়তা কাটাতে প্রথমেই আপনার শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী মিনিট পাঁচেক হাঁটুন বা জগিং করুন। এতে পেশীর তাপমাত্রা বাড়বে, অস্থিসন্ধির রেঞ্জ অফ মুভমেণ্ট বাড়বে। এ ছাড়াও রইল কিছু ব্যায়ামের হদিশ।

টি স্পাইন রোটেশন: একটা পাশবালিশে পা রেখে ডান দিকে কাত হয়ে শুয়ে পড়ুন। কাঁধ বরাবর দুই হাত সোজা করে রাখুন। এ বার বাঁ হাতটা ডান দিক থেকে এনে বাঁ দিকের মাটি স্পর্শ করুন আবার ফেরত নিন। মোট দশ বার। এ বার বাঁ দিকে কাত হয়ে ডান হাতটা দশ বার। সামান্য বিশ্রাম নিয়ে মোট দু’বার করুন। এই ব্যায়ামেও কাঁধ আর ঘাড়ের অস্থিসন্ধির রেঞ্জ বাড়ে। বুকের পেশী দীর্ঘায়িত হয়।

টি স্পাইন এক্সটেনশন: দুটো বালিশ একসঙ্গে নিয়ে পিঠের উপরের অংশে রেখে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। ঘাড়টা থাকবে বালিশের বাইরে। দুই হাত প্রসারিত করে মাথার পিছনে রাখুন। দশ সেকেন্ড ওই অবস্থায় থাকুন। একটু বিশ্রাম নিয়ে তিন বার করুন। দেখবেন বুকের পেশীতে টান পড়ছে। বুকের অংশের মেরুদণ্ডের নমনীয়তা এতে বাড়ে। কাঁধের আর ঘাড়ের ব্যথার সম্ভাবনা কমে।

বার্ড ডগ: সহজ ব্যায়াম। হামাগুড়ি দেওয়ার ভঙ্গীতে আসুন। ডান হাত কাঁধ বরাবর সামনে টানটান করুন। একই সময়ে বাঁ পাটাও পিছন দিকে টানটান করুন। দশ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এবার পালটে বাঁ হাত আর ডান পা। দু’দিকেই দশ সেকেন্ড করে ছ’বার করুন।

প্রোন কোবরা: উপুড় হয়ে শুয়ে হাত দুটো কাঁধের পাশে রাখুন। এবার মাটি থেকে বুক আর মাথা একসাথে সাধ্যমত শূন্যে তুলুন। হাতের তালু মুঠি করে রাখুন। শূন্যে ওঠার সময় তালুটা ঘুরিয়ে সিলিং-এর দিকে নিন। বুক আর মাথা শূন্যে ২-৩ সেকেণ্ড ধরে রেখে মাটিতে নামান। এভাবে দশ বার করুন। তিনবার রিপিট করুন। এই ব্যায়ামটাও কোমর আর ঘাড়ের জন্য দারুণ কার্যকরী।

এক পায়ে ব্রিজ: চিত হয়ে শুয়ে দুই হাঁটু কোমর থেকে ফুট খানেক দূরে মুড়ে রাখুন। এবার বাঁ পায়ে ভর রেখে কোমর শূন্যে তুলুন। তখন ডান পা থাকবে শূন্যে। অবস্থানটা দশ সেকেন্ড ধরে রাখার পর পা বদলে ডান পায়ে ভর দিন। এখানেও দশ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এ ভাবে মোট ছ’বার করুন। এতে হাঁটু আর কোমরের পেশীর জোর বাড়ে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।