ঢাকা বুধবার , ২৮ অক্টোবর ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল. . . চিকিৎসকের পছন্দের ক্লিনিকে টেস্ট না করানোয় রোগীর সাথে দূর্ব্যাবহার ।। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা না দেওয়ার অভিযোগ।। *কারন জানতে চাইলে সাংবাদিকের সাথে চিকিৎসকের অসৌজন্য মুলক আচড়ন!

ভোরের অঙ্গীকার ডেস্ক
অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৬:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিকুঞ্জ বালা পলাশ,বিশেষ প্রতিবেদকঃআগে দিবি বরিশাল শের-ই-বংলা মেডিজেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকের পছন্দের ক্লিনিকে টেস্ট না করানোয় রোগীর সাথে দূর্ব্যাবহার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ওই রোগীর অন্য ক্লিনিকে করানো টেস্টের রিপোর্ট না দেখেই ব্যাবস্থা পত্র লিখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেডিকেল অফিসার রমজান আলীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি হাসপাতাল পরিচালককে অবহিত করার পর উল্লেখিত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আগেও একই অভিযোগ থাকায় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
হাসপাতালে আউট ডোরে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা নগরীর কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোড এলাকার বাসিন্দা মো : সরুজ মল্লিকের স্ত্রী মোসা : নাজমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে মাথা ব্যাথা জনিত রোগে ভুগছিলেন। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে মেডিসিন বিভাগের নিচ তলায় মেডিকেল অফিসার ডা. রমজান আলীকে দেখানোর জন্য সিরিয়ালে লাইনে দাঁড়ান। অনেক ক্ষন অপেক্ষার পর সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে তাকে দেখানোর পর কয়েকটি পরীক্ষা করাতে বলেন। এসময় ওই চিকিৎসক এক মহিলাকে দেখিয়ে দিয়ে তার কথামতো ক্লিনিকে যেতে বলেন। কিন্তু চিকিৎসকের সুপারিশ করা ক্লিনিকে না গিয়ে সাইন্স ল্যাব নামের অপর একটি ক্লিনিক থেকে অনেকটা কম টাকায় পরীক্ষা করিয়ে নিয়ে আসেন। নাজমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, পরীক্ষা করানো শেষে রিপোর্ট নিয়ে তিনি ওই চিকিৎসকের কাছে যান। এসময় কেন তার সুপারিশ করা ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করা হয়নি এর কারন জানতে চান ওই চিকিৎসক রমজান আলী। এসময় তাকে বকাঝকা করে ওই রিপোর্ট না দেখেই ব্যাবস্থা পত্র লিখে দেন ওই চিকিৎসক। চিকিৎসকের এমন আচড়নের প্রতিবাদ করলে তাকে চিকিৎসকের রুম থেকে জোর করে বের করে দেন ওই চিকিৎসকের সহযোগীরা। বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যান এ প্রতিবেদক। এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের (পরিচালকের) অনুমতি ছাড়া তার কক্ষে প্রবেশ করার কৈফিয়ত চান ওই চিকিৎসক রমজান আলী। এমনকি বিষয়টি নিয়ে তিনি এ প্রতিবেদকের সাথে অসৈৗজন্য মুলক আচড়ন করে হট্টোগোল পাঁকালে সেখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরাও ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তার টেস্ট বানিজ্য নিয়ে নানান অভিযোগ তুলে ধরেন। একপর্যায়ে চিকিৎসক রমজান আলী তার ভুল স্বীকার করে নিজের কৃতকর্মর জন্য ক্ষমা চান এবং কোন নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করেন।
চিকিৎসা সেবা নিতে আসা নাজমা বেগম নামের এক রোগী বলেন, তিনি এর আগেও একবার ওই চিকিৎসকের কাছে এসেছিলেন। তার সুপারিশমতো ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করাতে হয়েছে। তিনি বলেন, অজ্ঞাত নামধারী একাধিক মহিলা (রোগীর দালাল) ওই চিকিৎসকের সামনে অবস্থান করেন। রোগী দেখানোর পরপরই পরীক্ষা নিরিক্ষা করার জন্য তিনি ওই দালালদের মাধ্যমে নির্ধারিত ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেন। তাদের পছন্দের ক্লিনিকে টেস্ট না করালেই রোগীর সাথে খারাপ আচড়ন করেন ওই চিকিৎসক।
হাসপাতালের সংবাদ সংগ্রহ করা একাধিক সংবাদকর্মী জানান, বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে রোগীর দালালদের দৌরাত্ব ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর অভিযোগ পেলে ব্যাবস্থা নেন, কিন্তু সব রোগীরাইতো তার কাছে অভিযোগ করেন না। যে কারনে দিন দিন দালালদের দৌরাত্ব বেড়েই চলছে। এছাড়া দালালদের বিরুদ্ধে কথা বললেই সংশ্লিষ্ঠ চিকিৎসক ও দালাল মিলে রোগীদের ভয়ভীতি ও হয়রানী করে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর আমার দেশকে বলেন অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে আগেও কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। পরিচালক বলেন, তিনি এখানে যোগদানের পর হাসপাতালের পরিবেশ স্বাভাবিক করার চেষ্ঠা করছেন এমনকি অনেকটা সফলও হয়েছেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে রোগীর দালাল প্রতিরোধে তিনি নিয়মিত তদারকি করছেন এবং দালাল রোধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিচ্ছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
সর্বশেষ সংবাদ সর্বশেষ