গৌরনদী প্রতিনিধিঃবরিশালের গৌরনদীতে চিরকুট লিখে বিষপানে লাবনী আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরী গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বিষপানের পর তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত লাবনী আক্তার উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভূরঘাটা এলাকার হাসমত আলী খানের মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় নয় মাস আগে পার্শ্ববর্তী মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার গোপালপুর এলাকার আমজেদ আলী ঘরামীর ছেলে রিফাত ঘরামীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর লাবনীর বিয়ে হয়। বিয়ের আগে লাবনী ও রিফাত একই বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন।
লাবনীর বোন রাজিয়া খাতুনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে লাবনীকে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন সময় মারধর ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এসব কারণে লাবনী দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে লাবনী বিষপান করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে লাবনী একটি চিরকুট লিখে যান। চিরকুটে তিনি নিজের কষ্ট, দাম্পত্য জীবনের নানা অভিযোগ এবং বেঁচে থাকার অনিচ্ছার কথা লিখেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। চিরকুটের শুরুতেই তিনি লেখেন, “আমি আর বাঁচতে চাই না, আমার জীবনটা ওরা শেষ করে দিয়েছে ”। সেখানে তিনি তার জীবন শেষ হয়ে যাওয়ার জন্য স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের প্রতি ক্ষোভ ও অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ভালোবেসে বিয়ে করার পরও দাম্পত্য জীবনে নানা সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কথা লিখেছেন তিনি।
চিরকুটে লাবনী তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের আচরণ, পারিবারিক অশান্তি এবং নিজের ওপর মানসিক চাপের বিষয় তুলে ধরেছেন বলেও স্বজনরা জানান। তবে চিরকুটে থাকা অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
লাবনীর বিষপানের খবর পেয়ে তার স্বামী রিফাত ঘরামী হাসপাতালে যান বলে স্বজনরা জানান। পরে লাবনীর মৃত্যুর খবর জানতে পেরে তিনি হাসপাতাল থেকে পালিয়প যান।
অভিযোগের বিষয়ে রিফাত ঘরামীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
