নাইমুল ইসলাম ,গৌরনদী প্রতিনিধি
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য এম. জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আজ থেকে শত বছর পরও আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় অম্লান হয়ে থাকবে। ইতিহাসে তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। জীবিত খালেদা জিয়ার চেয়ে মৃত খালেদা জিয়া অনেক বেশি চিরঞ্জীবী।শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে বরিশালের গৌরনদীতে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভা ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এম. জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে রাজপথের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া হয়ে উঠেছিলেন দেশের গণতন্ত্রের মা। জীবদ্দশায় তিনি যেমন ছিলেন আপোষহীন, মৃত্যুর পরও তেমনি তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে মায়ের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁর দৃঢ়চেতা নেতৃত্ব বারবার এ দেশের হারানো গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন, সদ্যপ্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শনিবার বিকেল ৩টায় ঐতিহ্যবাহী সরকারি গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে গৌরনদীবাসীর উদ্যোগে এ নাগরিক শোকসভা ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. জহির উদ্দিন স্বপন। এতে বক্তব্য দেন বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক দেওয়ান মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আবুল হোসেন মিয়া, গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহির, আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সিকদার হাফিজুর রহমান, আগৈলঝাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাধারণ সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন মন্টু, গৌরনদী উপজেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক তাসলিমা আক্তার, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি মাওলানা আব্দুল বাতেন নোমান, বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এএসপি শান্তনু ঘোষ, গৌরনদী ক্যাথলিক চার্চের পুরোহিত ফাদার লিটন গোমেজ, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি গৌরনদী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক তপন কুমার রায়, টরকী বন্দর বণিক সমিতির সভাপতি শরীফ শাহাবুব হাসান এবং আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সালামা বেগম।এম. জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বা বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দেখিনি। আমরা দেখেছি, মুক্ত খালেদা জিয়ার চেয়ে বন্দী খালেদা জিয়া অনেক বেশি শক্তিশালী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চেয়ে ক্ষমতাহীন খালেদা জিয়া ছিলেন আরও বেশি প্রভাবশালী। আজ আমরা দেখছি, জীবিত খালেদা জিয়ার চেয়ে মৃত খালেদা জিয়া অনেক বেশি চিরঞ্জীবী।
শোকসভা শেষে দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব।
