মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিনিধি!বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পানবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম স্যারের উপর ভগ্নিপতির ব্রাশের আঘাতে চোখ জখমের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার ফকিরাপুল এলাকায় মানবন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী, প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের অনুসারীরা।
সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ১৯ জুন সকাল ৯টার দিকে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে রহিম স্যারের সাথে তার ভগ্নিপতি রত্তন ঢালীর কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রত্তন ঢালী হাতে থাকা ব্রাশ দিয়ে সজোরে রহিম স্যারের ডান চোখে আঘাত করেন। এতে তার চোখ রক্তাক্ত জখম হয় এবং চোখের নেত্রনালী ছিঁড়ে যায়।
চিকিৎসকরা জানান, চোখের পাপড়িতে ৪টি, চোখের সাদা অংশে ৩টি এবং নেত্রনালীতে ৩টি সেলাই দিতে হয়েছে। নাকের হাড়ও ভেঙে গেছে। তার ডান চোখের প্রায় ৪০ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকার আগারগাঁও শ্যাশলী চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার ২৩ জুন বিকাল সাড়ে ৫টায় ফকিরাপুল এলাকায় মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে হামলাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলটি পানবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে পথসভায় মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মিজান খা, এনায়েত হোসেন বেপারি, মাহেব বাঘা, আহত শিক্ষকের স্ত্রী রোকসানা বেগম, ছেলে তানভির ইসলাম ও রাজিয়া বেগম। বক্তারা বলেন, “অন্যায়ভাবে স্যারের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে হামলাকারীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
সমাবেশ চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতা এক পর্যায়ে অভিযুক্ত রত্তন ঢালীর বাড়ির টিনের বেড়া ভেঙে ফেলে। খবর পেয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হামলাকারী রত্তন ঢালীর স্ত্রী নুরজাহান বেগম সাংবাদিকদের বলেন, “আহত আব্দুর রহিম আমার আপন ভাই। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ভাইয়ের সাথে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ঘটনার দিন আমার স্বামীকে মারতে গেলে হাত ছিটা লেগে ব্রাশের খোঁচায় চোখ জখম হয়। এখানে উভয়ের দোষ রয়েছে।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মেহেন্দিগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মমিন উদ্দিন বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সম্পত্তির বিরোধ আইনগতভাবে মীমাংসা করার সুযোগ থাকলেও একজন শিক্ষকের গায়ে এভাবে হাত তোলা মেনে নেওয়া যায় না। হামলাকারীর দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা।
