নিজস্ব প্রতিবেদকঃবরিশাল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ও স্থানীয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জেলায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক জালিয়াতি চক্র। কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের বরিশালে এনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট। অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র, জন্মনিবন্ধনসহ একাধিক ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে চক্রটি অনায়াসে এই অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।
এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে তিন যুবকের নাম উঠে এসেছে। তারা হলেন—শাওন নিলয়, রাব্বি ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চক্রটি সুনির্দিষ্ট কাজের দায়িত্বে বিভক্ত হয়ে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে এই জালিয়াতি পরিচালনা করে নিলয় (মূল হোতা) কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দালালদের সাথে যোগাযোগ করে ১ থেকে ২ লাখ টাকার চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের বরিশালে নিয়ে আসার মূল দায়িত্ব তার।রাব্বি তার কাজ হলো রোহিঙ্গাদের জন্য ভুয়া বাবা-মা সাজানো, ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা তৈরি এবং সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ভুয়া সিল-স্বাক্ষর জাল করে প্রত্যয়নপত্র প্রস্তুত করা। নাঈম সব ভুয়া কাগজপত্র একত্রিত করে পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে প্রবেশ করানো, কর্মকর্তাদের সিগনেচার নেওয়া এবং রোহিঙ্গাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট (আঙুলের ছাপ) দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা তার কাজ।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, রোহিঙ্গাদের বরিশালে আনার পর এই তিন যুবক মিলে তাদেরকে কয়েকদিন ধরে বাংলা ভাষা, ভুয়া বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের নাম এবং বরিশাল অঞ্চলের ঠিকানা মুখস্থ করায়, যাতে পাসপোর্ট অফিসে কোনো সন্দেহ না হয়।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধিকাংশ রোহিঙ্গার ভুয়া ঠিকানা হিসেবে বরিশালের আমানতগঞ্জ, ভাটিখানা ও বেলতলা এলাকা ব্যবহার করা হচ্ছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি অনুসন্ধানী সংবাদকর্মী দল এই সিন্ডিকেটের ওপর নজরদারি শুরু করে। প্রথম দিন কৌশলে নিলয়-রাব্বি- সিন্ডিকেটের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে অনুসন্ধানী টিম। সেখানে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট করানোর পুরো প্রক্রিয়ার অডিও ও ভিডিও ফুটেজ গোপনে ধারণ করা হয়। দ্বিতীয় দিনও একইভাবে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে রোহিঙ্গা নাগরিকসহ চক্রটির জালিয়াতির অকাট্য ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহ করে টিমের সদস্যরা।
এই জালিয়াতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সচিবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন
এই ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না। আমাদের কার্যালয় থেকে এমন কোনো প্রত্যয়নপত্র বা কাগজ দেওয়া হয়নি। ব্যবহৃত সমস্ত কাগজপত্র, সীল ও স্বাক্ষর সম্পূর্ণ ভুয়া। যদি আমাদের নাম ব্যবহার করে এমন জালিয়াতি করা হয়ে থাকে, তবে আমরা নিজেরা বাদী হয়ে এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
বিষয়টি নিয়ে বরিশাল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের পরিচালকের সাথে কথা বললে তিনি জানান বর্তমানে আমার কাছে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা প্রমাণ নেই। তবে যদি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে সঠিক তথ্য-প্রমাণ আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়, তবে আমরা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেব।
এদিকে ঘটনাটি জানার পর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন আপনাদের কাছে থাকা অকাট্য তথ্য ও প্রমাণাদি দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করুন। প্রশাসন দেশের সুরক্ষায় সর্বদা আপসহীন। এই জালিয়াতির সাথে জড়িত অসৎ চক্রের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই রোহিঙ্গা পাসপোর্ট সিন্ডিকেটের মূল উপড়ে ফেলতে প্রশাসনের দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ কামনা করছেন বরিশালের সচেতন মহল। এবিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের
