বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি: ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বরিশাল-৩ আসনের ১০ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
একই সঙ্গে তিনি বরিশাল-৩ আসনে ভোটার ও নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো, কেন্দ্র দখলের হুমকি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের হামলার ঘটনা সারা দেশেই ঘটছে এবং তাঁর নির্বাচনী এলাকা বরিশাল-৩ আসনেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ব্যারিস্টার ফুয়াদের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে তার এক নির্বাচনী কর্মী পোস্টার লাগানোর সময় হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। “এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে মাঠ পর্যায়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে একাধিকবার জানিয়েও আশানুরূপ ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। তার মতে, বরিশাল-৩ একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও অবহেলিত আসন। পাঁচটি নদী ও বহু যোগাযোগবিচ্ছিন্ন এলাকা থাকায় এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ।
এসব এলাকায় ভোটার ও সমর্থকদের নিয়মিত ভয় দেখানো হচ্ছে এবং কেন্দ্র দখলের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ জানান, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী তার নির্বাচনী এলাকার দুই উপজেলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। তবে যে পরিমাণ অভিযান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর উপর হামলা প্রসঙ্গ তুলে ধরে ব্যারিস্টার ফুয়াদ এসব ঘটনার নিন্দা জানান এবং বলেন, এ ধরনের হামলা গণতান্ত্রিক নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এ সময় তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বড় সমাবেশকে ঘিরে সহিংসতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, “৩১ দফা সংস্কারের নীতিগত লক্ষ্যকে আমরা সমর্থন করি। তবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দিয়ে সেই সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।”
ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, নির্বাচনের সহিংসতা বন্ধ না হলে শুধু নির্বাচনই নয়, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনীতিও অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকার দাবি জানান তিনি।
#
