ঢাকা শনিবার , ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চর কাউয়ায় সুযোগবাদী দলের নেতা সজীব, যে দলে ক্ষমতা সেই দলের

vorer angikar
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ ৯:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক।। চর কাউয়া এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয় বারবার বদলে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সাইফুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে। সাউথইস্ট ব্যাংকের ঢাকা শাখায় কর্মরত এই ব্যক্তি কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো বিএনপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে আসছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মী ও বাসিন্দাদের ভাষ্য। তার এমন সুবিধাবাদী রাজনীতির কারণে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও ক্ষোভ বাড়ছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে সজীব নিজেকে দলের সক্রিয় সমর্থক হিসেবে উপস্থাপন করতেন। ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চর কাউয়া আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবির পক্ষে তিনি প্রকাশ্যে প্রচারণা চালান এবং বিজয়ের পর আনন্দ-উল্লাসেও অংশ নেন। শুধু তাই নয়, নির্বাচনী তহবিলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দাতা ছিলেন বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।একইভাবে মহানগর ছাত্রলীগ সাবেক সভাপতি জসিমের ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময়ও সজীবকে মাঠে সক্রিয় দেখা যায়। পোস্টারিং, মাইকিং ও প্রচার মিছিলে তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, পাশাপাশি আর্থিক সহযোগিতাও করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।২০২৪ সালের ১২ মে অনুষ্ঠিত শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টেও সজীবকে প্রধান সংগঠক ও অর্থদাতা হিসেবে দেখা যায়। স্থানীয় ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো আয়োজনের ব্যবস্থাপনায় তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।এছাড়া চর কাউয়া সাগর মেম্বারের নির্বাচনী প্রচারণায়ও তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং নির্বাচনী ব্যয় বহনে সহায়তা করেছেন বলে জানা গেছে।শুধু রাজনীতিতেই নয়, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ঘিরেও তার বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হলের সভাপতি মুন্নাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে আওয়ামী লীগের পরিচয় ভাঙিয়ে নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। আরও গুরুতর অভিযোগ, চর কাউয়া মসজিদের পাবলিক টয়লেট ও স্টোররুম নামমাত্র ভাড়ায় নিয়ে তা অন্যদের কাছে উচ্চ মূল্যে ভাড়া দিয়ে অর্থ উপার্জন করছেন তিনি।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর চিত্র বদলেছে। বর্তমানে বিএনপি নেতা মামুন খন্দকারের ঘনিষ্ঠ বলয়ে থেকে সজীবকে লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, তিনি আদর্শের রাজনীতি করেন না, বরং যে দল ক্ষমতায় বা প্রভাবশালী অবস্থানে থাকে, সেই দলের ছায়ায় থেকে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করেন।চর কাউয়ার বাসিন্দাদের মতে, এ ধরনের ‘রঙ বদলানো’ রাজনীতিবিদদের কারণেই সাধারণ মানুষের কাছে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আস্থা নষ্ট হচ্ছে। তারা মনে করেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এমন সুবিধাভোগীদের বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম সজীব কে ফোন দিলে সে জানান, আপনারা ফোন দিয়েছেন কেন, আপনারা তো সব জানেন। আপনার যা মনে চায় তাই করেন। এ বিষয়ে আমি কোন বক্তব্য দেবো না।এ ব্যাপারে সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মোঃ আমিন বলেন কোন ফেসিস্টের আমাদের দলে জায়গা নাই। যারা বিগত দিনে আ’লীগ সাথে মিলে নিজের স্বার্থ রক্ষার্থে আ’গীক করেছেন তাদের বিএনপিতে কোন জায়গা নাই। যদি কোন বিএনপি লিডার তাদের সেল্টার দিয়ে থাকে তাদেরকেও আমরা প্রশ্নের মুখোমুখি করব। হাই-কমান্ডে জানানো হবে তারা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার করবেন। বিএনপি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দল এখানে ফেসিস্টের কোন জায়গা হবে না।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।