এম.আর.মন্টুঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর বাকি মাত্র ১২ দিন। প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই প্রচারণায় নেমে পরেছেন প্রার্থীরা। সারাদেশের পাশাপাশি বরিশালের ২১ টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা মাঠে নামলেও অধিকাংশ আসনেই ভোট প্রাপ্তি নিয়ে রয়েছে জটিল সমীকরণ। কাকে কিংবা কোন মার্কায় ভোট দিবেন, সে ব্যাপারে এখনো মুখ খুলছেন না ভোটাররা। ফলশ্রুতিতে, অধিকাংশ প্রার্থীরাই রয়েছেন টেনশনে। এদের মধ্যে বরিশাল ৫ আসনের প্রতি রয়েছে সকলের আলাদা দৃষ্টি। ইতিমধ্যে বরিশাল ৫ সদর আসনের ৩০ টি ওয়ার্ড এবং ১০ টি ইউনিয়নে প্রার্থীদের নির্বাচনী কার্যালয়ের অফিস উদ্বোধন করা হলেও অধিকাংশ অফিসে খরচ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন কর্মীরা। যে কারনে ফটোসেশান করেই দ্বায় সারছে কর্মীরা।তবে,খরচ না দিলেই নিজেদের পকেট থেকেই খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবী পদধারী নেতারা। গৌরনদী ও -আগৈলঝাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল ১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন প্রভাবশালী নেতা জহির উদ্দিন স্বপন। তবে,দলীয় মনোনয়ন নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহান। ফলে,দোটানায় ভুগছেন বিএনপির ভোটাররা। স্থানীয় ভোটাররা জানান, দুজনেই অত্র এলাকায় প্রভাবশালী। তাদের দ্বন্দের মাঝে সুযোগ নিতে পারেন
তৃতীয় পক্ষের কেউ। তবে, সাধারণ ভোটাররা এখন পর্যন্ত কাকে ভোট দিবেন সে বিষয়টিও পরিস্কার নয়।
উজিরপুর -বানারীপারা নিয়ে গঠিত বরিশাল ৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সরফুদ্দিন সান্টু। এ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আবদুল মান্নান এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীক নিয়ে মো: নেছার উদ্দিন। সাধারণ ভোটারদের ভাষ্য মতে, যদি কোন অঘটন না ঘটে,তাহলে সান্টুর জয় নিশ্চিত।এদিকে, তীব্র লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে বাবুগঞ্জ -মুলাদী নিয়ে গঠিত বরিশাল ৩ আসন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস-চেয়ারম্যান এড. জয়নুল আবেদীন। তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোটের মনোনিত প্রার্থী এবি পার্টির ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। এছাড়াও লাঙ্ল প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন গোলাম কিবরিয়া টিপু কারাগারে থাকায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তার কন্যা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভোটার জানান, এখানে লড়াই হবে ত্রীমুখি। ফলশ্রুতিতে কে হাসবেন বিজয়ের হাঁসি তা এখনো বোধগম্য নয়। বরিশাল ৫ সদর আসনে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। এখানে যেমন রয়েছে বিএনপির ৫ বারের সংসদ সদস্য এড. মজিবর রহমান সরোয়ার, তেমনি রয়েছেন চরমোনাই দরবার শরিফের সেকেন্ড কমান্ড মুফতি সৈয়দ সৈয়দ ফায়জুল হক। দুজনের পক্ষেই চলছে দিনরাত প্রচারণা। সর্বশেষ, গতকাল বরিশাল ক্লাবে বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সরোয়ারের পক্ষে সমর্থন জানান সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানগন এবং বিসিসির সাবেক কমিশনারগন।বিপরীতে, ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থীও প্রচারণায় চমক দেখাবেন বলে জানিয়েছে একটি সুত্র।তবে,সবচেয়ে আলোচিত আসন হচ্ছে দশমিনা-বাউফল নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী ৩ আসনে। এ আসনে ট্রাক প্রতীকে বিএনপির সমর্থন নিয়ে লড়ছেন গন অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরু।অপরদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে লড়ছেন্ সদ্য বহিস্কৃত বিএনপি নেতা হাসান মামুন। স্থানীয়দের মতে,এই আসনে হাসান মামুনের রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। এখানে স্থানীয় বিএনপিতে মামুনের রয়েছে ব্যাপক প্রভাব। তারা কোনভাবেই নুরুকে মেনে নিতে না পারায় দুই উপজেলারই কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় কমান্ড।এতেও দমে যাননি বিএনপির নেতাকর্মীরা। নিজেদের বহিস্কারাদেশ প্রাপ্তিতে তারা মিষ্টিও বিতরণ করেন।ফলশ্রুতিতে, দিনকে দিন ভোটের মাঠ হয়ে ঊঠছে উত্তপ্ত, বাড়ছে সংঘাত। তবে, ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, এই আসনের দিকেই দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে সাধারণ ভোটারদের।
